তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে ধানমণ্ডিতে পুলিশ ও আ.লীগের সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে হবিগঞ্জের পুরোনো ভিডিও প্রচার

গত ০১ জুন সাবেক মন্ত্রী ও দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেদিন মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কিছু ব্যক্তি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ওঠে। এ সময় হট্টগোল তৈরি হলে পুলিশ সেখান থেকে সাতজনকে আটক করে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ধানমণ্ডিতে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা শেষে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় পুলিশের সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ধানমণ্ডিতে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Md Majibur Rahman Bulyan’ নামক ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৫ সালের ০৫ জুলাই প্রকাশিত আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি সেসময়ে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ শহরে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনার দৃশ্য।

পরবর্তীতে, Daily Amar Nabiganj এবং সংবাদ শিরোনাম বাংলাদেশ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ২০২৫ সালের ০৫ জুন প্রকাশিত একই ভিডিও সংযুক্ত পোস্ট থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

এছাড়া, এ বিষয়ে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ০৮ জুলাই ‘দুই সাংবাদিকের বিরোধ থেকে সূত্রপাত, এরপর নবীগঞ্জ শহরে সংঘর্ষ-আগুন, ঝরল প্রাণ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উক্ত সংঘাতটির সূচনা হয় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের স্থানীয় দুজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরোধ থেকে। পরে তা এলাকাভিত্তিক দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জড়ানো এ সংঘাতে প্রাণ হারান একজন, আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। সংঘর্ষকালে শহরে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটির সাথে তোফায়েল আহমেদের জানাজার কোনো সম্পর্ক নেই।

সুতরাং, ধানমণ্ডিতে তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে ২০২৫ সালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: