সাকিবের অবসর প্রসঙ্গে পাপনকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণার ভুয়া দাবি

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অবসরের দিন রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিসিবি সভাপতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন। তাছাড়া উক্ত পোস্টগুলোতে নাজমুল হাসান পাপনকে উদ্ধৃত করে আরও দাবি করা হয়েছে, বিসিবি সাকিব আল হাসানকে একটি মুকুট পড়িয়ে দেবে যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহ্য বহন করবে এবং ভবিষ্যতে সাকিবের মত কাউকে পেলে তাকে মুকুটটি উপহার দেওয়া হবে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিসিবি সভাপতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অবসরের দিন রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে শীর্ষক কোনো মন্তব্য করেননি এবং ‘বিসিবি সাকিব আল হাসানকে একটি মুকুট পড়িয়ে দেবে যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহ্য বহন করবে এবং ভবিষ্যতে সাকিবের মত কাউকে পেলে তাকে মুকুটটি উপহার দেওয়া হবে’ শীর্ষক কোনো মন্তব্যও তিনি করেননি বরং নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীনভাবে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

গুজবের সূত্রপাতঃ

অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে Team Bangladesh নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২১ এপ্রিল এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করে সেখানে কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পেজটি পর্যবেক্ষণ করে “সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের মানচিত্র’’ শীর্ষক একটি বাক্য পেজটির অ্যাবাউট সেকশনে পাওয়া যায়। তাছাড়া উক্ত পেজের প্রোফাইল ও কাভার ফটোতেও সাকিব আল হাসানের ছবি ও জার্সি প্রদর্শিত হতে দেখা যায়।

পেজটির ট্র‍্যান্সপারেন্সি সেকশনে গিয়ে দেখা যায়, পেজটি ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল। সেসময় পেজটির নাম ছিল ‘Shakib Al Hasan MP।’ এরপর চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি পেজটির নাম পরিবর্তন করে ‘Team Bangladesh’ রাখা হয়।

ধারণা করা যায়, এই পেজটি সাকিব আল হাসানের কোনো ভক্ত দ্বারা পরিচালিত।

পেজটিতে প্রচারিত কিছু সাম্প্রতিক পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উদ্ধৃত করে প্রচারিত পোস্টগুলোতে (, , ) কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

পরবর্তীতে আলোচ্য দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক একাধিক কি ওয়ার্ড সার্চ করেও সাকিব আল হাসানের অবসর প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান পাপনের এমন কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘সাকিব নামার পর থেকে মানুষ পাগল হয়ে গেছে: বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সাকিব আল হাসান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষিতে সে সময়ে নির্বাচনের পরও সাকিবকে খেলার মাঠে পাওয়া যাবে কি না এমন প্রশ্নে বিসিবি সভাপতি জবাবে বলেছিলেন, ‘এই বিষয়ে কথা হয়েছে। তাঁর ২০২৫ সাল পর্যন্ত খেলার কথা।’ বিসিবির পরবর্তী সভাপতি হিসেবে মাশরাফি ও সাকিব দুজনই আগ্রহ দেখিয়েছেন। কে আসতে পারে, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বলা মুশকিল। এটা বলা কঠিন। এখানে বলা ঠিক হবে না।’

এছাড়াও, মূলধারার গণমাধ্যম যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ‘অবসর নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে সময় বিপিএল চলাকালে সাকিব আল হাসান নিজের অবসর প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনই অবসরের কোনো ভাবনাই নেই। সবাই চেষ্টা করছে সাহায্য করার। যাতে করে আমি যে সমস্যা ফেস করছি, উতরে যেতে পারি। আমার এখন পর্যন্ত কোনো ভাবনা নেই। চেষ্টা করছি, আগে চেষ্টা শেষ করতে দেন। পরেরটা পরে ভাবব।’

অর্থাৎ, উপরের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, সাকিব আল হাসানের অবসর প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন উক্ত মন্তব্যটি করেননি।

মূলত, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত পোস্টে বলা হয়, ‘সাকিব আল হাসানের অবসরের দিন রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে এবং বিসিবি সাকিব আল হাসানকে একটি মুকুট পড়িয়ে দেবে যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহ্য বহন করবে ও ভবিষ্যতে সাকিবের মত কাউকে পেলে তাকে মুকুটটি উপহার দেওয়া হবে’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বিসিবি সভাপতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উক্ত দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীনভাবে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে উক্ত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

উল্লেখ্য, পূর্বেও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে জড়িয়ে প্রচারিত একাধিক ভুয়া তথ্য শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, সাকিব আল হাসানের অবসর প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান পাপনের নামে প্রচারিত মন্তব্যটি বানোয়াট ও ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: