আরটিভি’র ফটোকার্ড নকল করে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহিকে জড়িয়ে জবির নামে ভুয়া তথ্য প্রচার 

সম্প্রতি, “জগন্নাথ মাতাতে অবশেষে সব জল্পনা- কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় আসছেন বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি!” শীর্ষক একটি তথ্য আরটিভি’র আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

নোরা ফাতেহি

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথ মাতাতে ঢাকায় আসছেন বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি শীর্ষক দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয় এবং আরটিভিও এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রচার করেনি বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে উক্ত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি’র ফটোকার্ডের ডিজাইন সম্বলিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। সেখানে এই সংবাদটি প্রচারের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া আলোচিত এই ফটোকার্ডের টেক্সট ফন্টগুলোর মধ্যে অসংগতি লক্ষ্য করা যায়।

অনুসন্ধানে কি ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে আরটিভি’র ওয়েবসাইট, ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ এবং আরটিভি’র ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত তথ্য সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবিতে প্রচারিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায় নি।

তবে ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর আরটিভি’র ফেসবুক পেজে ‘অবশেষে ঢাকা আসছেন নোরা ফাতেহি’ শীর্ষক শিরোনামে “অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় আসছেন বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি!” শীর্ষক তথ্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় এবং এর কমেন্টেেও একই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর আরটিভি’র ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে তাতে ‘জগন্নাথ মাতাতে’ শীর্ষক শব্দটি যুক্ত করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ফটোকার্ডটির উৎসের খোঁজে

অনুসন্ধানে গত ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫ টা ৪ মিনিটে জবি সার্কাজম পেজে একটি পোস্ট (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি একটি সার্কাজম পেজ। বিভিন্ন সময়ে এই পোজটি থেকে সার্কাজমধর্মী বিভিন্ন পোস্ট প্রচার করতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, এই পেজটি থেকে আলোচিত ফটোকার্ডটি প্রথমে সার্কাজম হিসেবে প্রচার হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এই ফটোকার্ডটি আসল দাবিতে প্রচার করা হয়।

ফটোকার্ডটি তৈরির প্রেক্ষাপট

গত ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওয়েবসাইটে “বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জগন্নাথ মাতাতে পারেন জেমস” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এর বরাত দিয়ে জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কনসার্টে মঞ্চ মাতাতে পারেন নগরবাউল খ্যাত জেমস।

তবে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রার মোঃ ওহিদুজ্জামানের সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সূচি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উক্ত অনুষ্ঠান সূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডদলগুলোর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা বলা হলেও নগরবাউল খ্যাত জেমস এর অংশগ্রহণ সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কনসার্টে নগরবাউল খ্যাত জেমস আসতে পারে বলে জানানো হলেও পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত অনুষ্ঠান সূচিতে তা অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আলোচ্য দাবির সূত্রপাত ঘটেছে।

মূলত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে মঞ্চ মাতাতে পারেন নগরবাউল খ্যাত জেমস- এমন একটি তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বরাতে গত ০৫ অক্টোবর মূলধারার একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে গত ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মোঃ ওহিদুজ্জামানের সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জেমস এর উপস্থিতি নিয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এরই প্রেক্ষিতে মূলধারার গণমাধ্যম আরটিভি’র ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর “অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় আসছেন বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত ফটোকার্ডটিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে তাতে জগন্নাথ মাতাতে’ শব্দদ্বয় যুক্ত করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, ‘জগন্নাথ মাতাতে ঢাকায় আসছেন বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি’ শীর্ষক দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি এডিটেড বা বিকৃত।

তথ্যসূত্র

Share: