ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কলেজ ছাত্রী অপহরণের দাবিতে মধ্যপ্রদেশের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় প্রকাশ্যে ২০-২৫ জন হিন্দু যুবক ‘আছমা খাতুন’ নামের এক মুসলিম কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই দাবির ভিডিও পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বারওয়ানি জেলার একটি অপহরণের ঘটনার ভিডিও। মূলত, এক আদিবাসী হিন্দু যুবতীকে তার স্বামী ও সহযোগীরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক ভাস্করসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমে আলোচিত ভিডিও সংক্রান্ত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি জেলার রাজপুর তহসিলের ইন্দ্রপুর গ্রামে সংঘটিত হয়। গত ৭ জুলাই বিকেলে এক যুবতীকে তার বাবার বাড়ির পাশের একটি মাঠ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা দৃশ্যটি ওই ঘটনারই।
প্রতিবেদনগুলো থেকে আরও জানা যায়, স্থানীয় আদিবাসী সমাজে প্রচলিত ‘বেজা’ প্রথা অনুযায়ী অভিযুক্ত হুকুম রাওয়াতের পরিবার বিয়ের উদ্দেশ্যে যুবতীর পরিবারের কাছে প্রায় ২ লাখ রুপি প্রদান করেছিল। তবে অর্থ গ্রহণের পরও যুবতীর পরিবার তাকে হুকুমের বাড়িতে পাঠায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে গত ৭ জুলাই হুকুম রাওয়াত প্রায় ২৫-৩০ জন সহযোগীকে নিয়ে ইন্দ্রপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে ওই যুবতীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওতে ওই ঘটনাই দেখা যায়।
স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়, বাগদানের পর যুবতী কয়েকদিন হুকুম রাওয়াতের সঙ্গে ছিলেন। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, হুকুম পূর্ব থেকেই বিবাহিত। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং তার সঙ্গে আর সংসার করতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরই জোরপূর্বক তাকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে কোথাও ভুক্তভোগীকে মুসলিম বা ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ভারতীয় গণমাধ্যম আজতকের ফ্যাক্টচেক বিভাগের একটি প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আজতকের ফ্যাক্টচেক বিভাগ স্থানীয় পুলিশ, সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয় যে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয়েই হিন্দু সম্প্রদায়ের। ভুক্তভোগীর ভাইও তাদের জানান, তার বোনের নাম মনীষা সিসোদিয়া এবং তাদের পরিবার হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কোনো মুসলিম কলেজছাত্রী অপহরণের নয় এবং এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতারও কোনো সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক আদিবাসী হিন্দু যুবতীকে অপহরণের ঘটনার ভিডিওকে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কলেজছাত্রী অপহরণের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bhaskar Website: Woman abducted in broad daylight over ₹2 lakh tribal custom:25–30 men drag her from field; police launch investigation
- Aajtak Website: ফ্যাক্ট চেক: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবিতে ছড়াল মধ্যপ্রদেশের অপহরণের ভিডিও
- Rumor Scanner’s Analysis

