ছাত্রলীগ করায় কিশোরকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, ছাত্রলীগ করার দায়ে ১৫ বছরের এক কিশোরকে গণপিটুনি দিতে হত্যা করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ছাত্রলীগ কর্মীকে গণপিটুনি দিয়ে হওয়ার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেতে এক কিশোরকে গণপিটুনি দেওয়ার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে Asadujjaman Ridoy নামের একটি ফেসবুক আইডিতে গত ১৯ মার্চ প্রচারিত একটি ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। 

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত ভিডিওর ৩০ সেকেন্ডের ফুটেজ থেকে বেশকিছু অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে। মূলত উক্ত ভিডিওটি আলোচিত ভিডিওর একটি বর্ধিত সংস্করণ। ভিডিওটির শিরোনামে দাবি করা হয়, এটি গত ১৮ মার্চের ভিডিও। গণপিটুনির শিকার ওই কিশোরের বিরুদ্ধে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে বলে পোস্টটিতে দাবি করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম একুশে টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৯ মার্চ খিলক্ষেত ধ/র্ষ/ণের অভিযোগে তরুণকে পি/টিয়ে আ/হ/ত: পুলিশ গাড়িতে হা/ম/লা  শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে এতে ওই কিশোরকে মারধরের ফুটেজ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় ব্যক্তিরা এক কিশোরকে মারধর করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় খিলক্ষেত বাজার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকশ স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। এসময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেন তারা। এ ঘটনায় বেশকয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অভিযুক্ত কিশোর গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়।

পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে এঘটনায় মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

অর্থাৎ, গণপিটুনির শিকার ওই কিশোরকে ছাত্রলীগ করার দায়ে নয় বরং, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মারধর করা হয়।

সুতরাং, ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরকে মারধরের ভিডিওকে ছাত্রলীগ করার দায়ে ১৫ বছরের কিশোরকে গণপিটুনি দিতে হত্যা করার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: