বিএনপি-জামায়াত নেতার নারী নির্যাতনের ভিডিও দাবিতে পারিবারিক ঘটনার ভিডিও প্রচার

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় ফ্যামিলি কার্ডের বিষয় বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড ভুয়া বলে মন্তব্য করায় মনির নামের এক বিএনপি নেতা একজন নারীকে মারধর করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই ভিডিওটি মাথায় ওড়না না দেওয়ায় একজন নারীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত এক উপজেলা সভাপতির মারধরের ভিডিও দাবিতেও প্রচার করতে দেখা যায়। এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতার আলোচিত অভিযোগগুলোতে নারীকে মারধরের ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ওই নারীকে মারধরকারী ব্যক্তি তার বাবা হন বলে জানা যায়। উক্ত ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এবিষয়ে অনুসন্ধানে Muhammad Mahabub Mia নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ২৪ জানুয়ারি আলোচিত ভিডিওটির একটি বর্ধিত সংস্করণ প্রচারিত হতে দেখা যায়।

প্রচারিত ভিডিওটির শিরোনাম থেকে জানা যায়, এটি ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকার ঘটনা। পরবর্তীতে ভিডিওটির মন্তব্যের ঘর পর্যালোচনা করে পোস্টকারীর একটি মন্তব্য পাওয়া যায়। যেখানে তিনি জানান, ঘটনাটি গত ২৪ জানুয়ারির অর্থাৎ, যেদিন ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে সেদিনেরই। তবে ভিডিওতে ওই নারীকে মারধরকারী তার বাবা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তীতে ভিডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মুহাম্মদ মাহাবুব মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, মাহাবুব মিয়া জাতীয় দৈনিক সকালের সময়-এর ফরিদপুর জেলার মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি। তার প্রচারকৃত আলোচিত ভিডিওটি তিনি নয় বরং স্থানীয় এক বাসিন্দা ধারণ করে তাকে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি ঘটনাটির বিষয়ে জানতে সরেজমিনে সেখানে উপস্থিত হলে নির্যাতনের শিকার ওই মেয়ে ও তার বাবা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে মারধরের কারণ জানা না গেলেও ওই মেয়ে তাদের সাথে কথা বললে পরবর্তীতে তার বাবা তাকে আবার মারধর করবেন তাই তিনি পালিয়ে গিয়েছেন বলে স্থানীয়রা তাকে জানান এমনটাও বলেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেন যে এর সাথে বিএনপি-জামায়াতের জড়িত থাকার দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি সম্পূর্ণ পারিবারিক।

সুতরাং, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সমালোচনায় কিংবা পর্দা না করায় নারীকে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীদের মারধরের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Muhammad Mahabub Mia Facebook Post
  • Statement of Muhammad Mahabub Mia
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: