সম্প্রতি ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৩ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার মন্তব্য দাবিতে ‘হলের মোটামুটি সবাই চলে গেছে। পুরো হল ফাঁকা শুনশান নিরবতায় ভয় পাচ্ছিলাম এজন্য সাদিক কাইয়ুম ভাইয়াকে কল দিয়ে গল্প করার জন্য রুমে আসতে বল্লাম। এখন একটু শান্তি পাচ্ছি।’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাদিক কায়েমকে জড়িয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, জুমার ভিন্ন বক্তব্য সম্বলিত ফেসবুক পোস্টের সাথে ভুয়া বাক্য যুক্ত করে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
দাবিটির সূত্রপাত অনুসন্ধানে ফেসবুকে DU Insiders নামের একটি পেজে এ সংক্রান্ত মূল দাবির পোস্টটির সন্ধান মেলে। গতকাল রাত ৮ টা ৪১ মিনিটে করা এই বক্তব্যের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি পোস্টে। ১৯’শ ফলোয়ারের পেজটির ট্রান্সপারেন্সি সেকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ভিন্ন নামে পেজটি চালু পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা নাম পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর নাম বদলে বর্তমান নাম রাখা হয়।

একই নামে ফেসবুকে থাকা মূল পেজটি থেকে আজ এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, উক্ত পেজটি তাদের নয়।
পরবর্তীতে, জুমা এমন কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা তা জানতে অনুসন্ধানে তার ফেসবুক প্রোফাইলে গতকাল দুপুরের একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “হলের মোটামুটি সবাই চলে গেছে। ফ্লোর ফাঁকা বলতে গেলে। শুনশান নিরবতার মধ্যে এখন আমার ফিডে খালি জ্বীনের রিলস আসতেছে।” এই পোস্টের প্রথম অংশের সাথে আলোচিত দাবির প্রথম অংশের মিল পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এই পোস্টের বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ফাতিমা তাসনিম জুমা রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন, তিনি আলোচিত মন্তব্যটি করেননি।
সুতরাং, সাদিক কায়েমকে জড়িয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমার মন্তব্য দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Statement
- Rumor Scanner’s own analysis


