সম্প্রতি, একটি শিশুর ছবি যুক্ত করে শিশুটিকে বাংলাদেশী জান্নাতুল সাইমা দাবিতে একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত এ সংক্রান্ত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এই পোস্টে ৮১ হাজারের অধিক রিয়েক্ট এবং ১১ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শিশু সাইমা নামে প্রচারিত ছবিটি কোনো বাংলাদেশি শিশুর নয়। প্রকৃতপক্ষে, উজবেকিস্তানের এক শিশুর (যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে) ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুয়া দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ‘sport_uzbekistan_today’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির শিশুর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত শিশুর মিল রয়েছে। উক্ত পোস্টে উজবেক ভাষায় শিশুটির জন্য সাহায্য চাওয়া হয়। আরো অনুসন্ধানে Dadaxon Haydarov নামের উজবেকিস্তানের একজন ব্লগারের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ০২ অক্টোবর একই শিশুর ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। জানা যায়, মেয়েটির নাম হাদিছখন। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরের দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ সহায়তা প্রয়োজন ছিল তার। সে সংক্রান্ত আপডেটই দেওয়া হয় এই ভিডিওতে। একই প্রোফাইলে ০৬ অক্টোবর প্রকাশিত আরেক ভিডিওতে জানানো হয়, শিশুটিকে তুরস্কের আন্কারার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ০৯ ডিসেম্বর এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লাশের কফিন নামানো হচ্ছে বিমান থেকে। ভিডিও থেকে জানা৷ যায়, মেয়েটি মারা গেছে।
অর্থাৎ, যে শিশুর ছবি ব্যবহার করে আর্থিক সাহায্যের দাবিটি ছড়াচ্ছে, সেই শিশুটি বাংলাদেশের নয়। উজবেকিস্তানের শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
কথিত শিশু সাইমার নামে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদনকৃত ফেসবুক পোস্টগুলোয় যে নাম্বারটি (01732198947) মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য দেওয়া রয়েছে, তা পূর্বেও একাধিক আর্থিক প্রতারণায় ব্যবহার হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের ২০২২ সালের আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত একটি ফ্যাক্টচেকেও একই নাম্বারের বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়।
সুতরাং, আর্থিক প্রতারণার উদ্দেশ্যে উজবেকিস্তানের মৃত শিশুর ছবিকে বাংলাদেশী শিশু সাইমা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Dadaxon Haydarov: Instagram Video
- Sport_uzbekistan_today – Instagram Post


