নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রতি বছরের মতো এবারও ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২ টা থেকে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি ফানুস আর আতশবাজির ঝলকানিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের আকাশ ছেয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনায় দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া যায়। এরই প্রেক্ষিতে ‘ফাস্ট নাইটে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে কট খাইলো জামাতি এক চো”‘দনা’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভিডিওটি বাংলাদেশেরও নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতে দীপাবলির উৎসবে এক যুবকের স্টান্ট শোয়ের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতের সংবাদমাধ্যম Shama News এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির ০০:১০ থেকে ০০:৫৮ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি দীপাবলি উদযাপনে এক যুবকের নিজের শরীরে এক হাজার আতশবাজির লহর জড়িয়ে সেগুলো ফোটানোর দৃশ্য। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদ শহরে ঘটে।
অর্থাৎ, ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতের নয় এবং ঘটনাটি ভারতের ঘটেছে৷
পরবর্তীতে, ভারতের মহারাষ্ট্র ভিত্তিক গণমাধ্যম Lokmat এর ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।
উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতে দীপাবলি উৎসব উপলক্ষে স্টান্ট শোতে এক যুবকের হাত বেঁধে তার শরীরে আতশবাজি জড়িয়ে সেগুলো ফোটানো হয়। এতে তার শরীরে কিছু ছোটখাটো জখম হয়েছে।
এ বিষয়ে একই তারিখে আরেক ভারতীয় গণমাধ্যম News 18 এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
সুতরাং, থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর আহত হওয়ার দৃশ্য দাবিতে ভারতে দীপাবলি উৎসবের স্টান্ট শোয়ের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা৷


