মাহফুজা খানম ডাকসুর প্রথম ও একমাত্র নারী ভিপি নন

নানা সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর প্রথম বা একমাত্র নারী ভিপি মাহফুজা খানম। গত ১২ আগস্ট মাহফুজা খানমের মৃত্যুর খবরে আলোচিত দাবিটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন : সময় টিভি, ইনডিপেনডেন্ট টিভি, চ্যানেল আই, আরটিভি, এখন টিভি, দেশ টিভি (ইউটিউব), দীপ্ত টিভি, বাংলা ভিশন, ডিবিসি নিউজ, প্রথম আলো, কালবেলা, যুগান্তর, সমকাল, নয়া দিগন্ত, মানবজমিন, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আজকের পত্রিকা, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, দেশ রূপান্তর, ডেইলি সান, মানবকণ্ঠ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, ঢাকা পোস্ট, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ জার্নাল, দ্য রিপোর্ট লাইভ, ডেইলি অবজারভার, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক আজাদী, রূপালী বাংলাদেশ, ঢাকা প্রকাশ, ভিউজ বাংলাদেশ, সারাবাংলা, খবর সংযোগ, অর্থসূচক, বাহান্ন নিউজ, ক্যাম্পাস টাইমস, ডেল্টা টাইমস, সংবাদ অনলাইন, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক করতোয়া, একুশে সংবাদ, সময়ের খবর, সময়ের আলো, প্রবাস খবর, বৈশাখী নিউজ২৪, বিডিলাইভ২৪, নিউজনাও২৪, নিউজজোন বিডি, বিডি টুডে, প্রতিদিনের বাংলা, ভোরের চেতনা, সকাল সন্ধ্যা, আলোকিত বাংলাদেশ, বার্তা২৪, বিবার্তা২৪, নাগরিক নিউজ, ভিওডি বাংলা, স্বপ্নের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের আলো, রেড টাইমস, দৈনিক পরিবার, দৈনিক দিগন্তর, সংবাদ জমিন, আদালত বার্তা, বাংলাদেশ চিত্র, অনন্যা

আলোচিত দাবিতে ২০২১ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন : দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ইউটিউব অ্যাকাউন্টে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়াও, মাহফুজা খানম নিজেও আলোচিত দাবিটি একাধিকবার করেছেন। দেখুন এখানে এবং এখানে

গণমাধ্যম ছাড়াও নানা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা পেজ থেকেও আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

গণমাধ্যম ছাড়াও নানা এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

গণমাধ্যম ছাড়াও নানা টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকেও আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

এরূপ দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহফুজা খানম ডাকসুর প্রথম বা একমাত্র নারী ভিপি বা সহ-সভাপতি নন। প্রকৃতপক্ষে মাহফুজা খানমের আগে ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে বেগম জাহানারা আখতার ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে স্থাপিত একটি অনার বোর্ডের বিষয়ে খোঁজ পাওয়া যায় যেখানে এযাবতকালের ডাকসুতে নির্বাচিত সব ভিপি (সহ-সভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) এর নাম ও তাদের নির্বাচিত হওয়া শিক্ষাবর্ষের উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে রিউমর স্ক্যানারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির সহায়তায় উক্ত অনার বোর্ডের ছবি সংগ্রহ করা হয়।

বোর্ডটিতে থাকা তালিকাতে দেখা যায়, ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মাহফুজা খানম এবং সেসময় তার সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মোরশেদ আলী। তালিকাটি পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায়, মাহফুজা খানমের আগে ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে আরেকজন নারী ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাহফুজা খানমের আগে নির্বাচিত হওয়া সেই নারী ভিপির নাম বেগম জাহানারা আখতার এবং সেসময় তার সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন অমূল্য কুমার।

পাশাপাশি, এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘জাগোনিউজ২৪’ এর ওয়েবসাইটে ‘ডাকসুর ভিপি-জিএস হয়েছিলেন যারা’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ১১ মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতেও ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হিসেবে ‘বেগম জাহানারা আক্তার’ এর নাম পাওয়া যায়।

এছাড়া, পুরোনো পত্রিকার অনলাইন সংরক্ষণাগার সংগ্রামের নোটবুক এর ওয়েবসাইটে ১৯৮৫ সালের ১৩ ডিসেম্বরে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার একটি পেপার কাটিংয়ের ছবি পাওয়া যায়। ছবিটিতে ১৯২৪ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি ও জিএসের তালিকা পাওয়া যায়। তালিকাটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মাহফুজা খানম এবং তার আগে ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম জাহানারা আখতার।

উল্লিখিত তথ্যপ্রমাণ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মাহফুজা খানম ডাকসুর একমাত্র বা প্রথম নারী ভিপি ছিলেন না।

সুতরাং, মাহফুজা খানম ডাকসুর একমাত্র এবং প্রথম নারী ভিপি ছিলেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: