চটকদার থাম্বনেইলে প্রধানমন্ত্রীর বরাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে সেনাপ্রধান শীর্ষক ভুয়া দাবি প্রচার

সম্প্রতি, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে সেনাপ্রধান, জানালেন প্রধানমন্ত্রী” শীর্ষক থাম্বনেইল এবং একই তথ্য সম্বলিত শিরোনামে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন ভিডিও (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে আসবে সেনাপ্রধান এমন কোন প্রকার মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরং অধিক ভিউ পাবার আশায় চটকদার থাম্বনেইল এবং শিরোনাম ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে প্রযুক্তির সাহায্যে যুক্ত করে ভিত্তিহীনভাবে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘Sabai Sikhi’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে “যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে সেনাপ্রধান জানালেন শেখ হাসিনা। BD politics news” শীর্ষক শিরোনামে ভিডিওটি প্রচার করা হয়।

২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা আমাদের থাকতে হবে।’

জেনারেল এসএম শফিউদ্দীন আহমেদের কথার সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক একাধিক কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে যমুনা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ এর নভেম্বরে “মাতৃভূমিকে রক্ষায় সেনা সদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ ” শীর্ষক শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদ প্রতিবেদনটির খণ্ডাংশ আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির সাথে অপ্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

উক্ত ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রামুতে সেনাবাহিনীর আন্তঃফরমেশন অ্যাসল্ট প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে জেনারেল এসএম শফিউদ্দীন আহমেদ বলেন,দেশ মাতৃকাকে যেকোন বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষায় সৈনিকদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

উক্ত ভিডিওটি কোনো প্রকার প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে সময় টেলিভিশন এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর “ভয়েস অব আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার। Voice of America। PM Sheikh Hasina। Somoy TV” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ৩৫ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের এই ভিডিওর কয়েকটি খণ্ডাংশ নিয়ে আলোচিত ভিডিওতে যুক্ত করা হয়েছে।

সময় টেলিভিশন এর উক্ত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, ভয়েজ অব আমেরিকায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এক সাক্ষাৎকারের ভিডিও এটি।

উক্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর কথার সূত্র ধরে দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা সংস্করণে ৩০ সেপ্টেম্বর “আমেরিকায় আসতে না পারলে আসবে না,আমার দেশে যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক শতরূপা বড়ুয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেয়।’

উক্ত ভিডিওটিও কোনো প্রকার প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির পরবর্তী অংশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর আবুল কাশেম ফজলুল হক এর ছবি অপ্রাসঙ্গিক ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে সেনাপ্রধান বিষয়ক কোনো প্রকার মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী করেননি। এছাড়া মূলধারার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, ‘Sabai Sikhi’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে সেনাপ্রধান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শীর্ষক শিরোনাম এবং থাম্বনেইলে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায় অধিকতর ভিউ পাবার আশায় চটকদার থাম্বনেইল ও শিরোনাম ব্যবহার করে কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়। পাশাপাশি দেশের নির্ভরযোগ্য কোনো গণমাধ্যম সূত্রেও এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে সেনাপ্রধান জানালেন প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক তথ্যটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: