তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দাবিতে স্ক্রিপ্টেড ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘সমাজ টা আজ কোথায় যাচ্ছে বলুন তো,,, জোর করে বিয়ে দেওয়াতে কিছুতেই কবুল বলতেছে না কনে !! কবুল বলার পরের মুহূর্ত দেখুন বিয়ে অনুষ্ঠানে !! এ-ই বুড়া সহ কনে পরিবারের সকলকে আইনের আওতায় আনা হোক।। সবার আগে বিবাহ যে পড়াচ্ছেন তাকে ডিম দেওয়া হোক।’

অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে ভিডিওটি মেয়েকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার আসল ঘটনার দৃশ্যের।

উল্লেখ্য, কথিত ভিডিওটিতে দেখা যায় মেয়েটি বিয়েতে রাজি হতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেও তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

আলোচিত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষক দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সত্য কোনো ঘটনার নয় বরং, স্ক্রিপ্টেড বা অভিনীত ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Wedding Studio’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৯ এপ্রিলে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিরও মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে একই নারী ও পুরুষের আরো বেশ কয়েকটি ভিডিও পাওয়া যায়। এছাড়াও, পেজটিতে জোর করে বিয়ে সংক্রান্ত ভিন্ন নারী পুরুষেরও একইরকম আরো ভিডিও পাওয়া যায়। এবং উক্ত ফেসবুক পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পেজটি থেকে নিয়মিত এরকম কনটেন্ট প্রচার করা হয়।

পেজটির বায়োতে লেখা রয়েছে, ‘কেউ আমাদের ভিডিওগুলো গুরুত্বের সাথে নেবেন না, আমাদের রিলগুলো শুধুমাত্র আপনাদের বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং বাস্তবের বা এমন কোনো ঘটনার সাথে এর কোনো মিল নেই। আমি কারো বিরুদ্ধে কোনো ভিডিও তৈরি করি না। দয়া করে আপনারা কেউ ধর্মীয় মন্তব্য করবেন না। আমরা সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করি।’ (অনূদিত)

পেজটির ‘ট্রান্সপারেন্সি’ বিভাগ যাচাই করে দেখা গেছে, পেজটি বাংলাদেশ থেকে তিনজন ব্যক্তি পরিচালনা করেন। জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ জুলাই পেজটি প্রথমে ‘Wedding Studio’ নামে তৈরি করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পেজটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘AN Media’। তবে, একই বছরের ১৮ এপ্রিল পেজটির নাম আবার পরিবর্তন করে পুরোনো নাম ‘Wedding Studio’ রাখা হয়।

অর্থাৎ, পেজটি পর্যবেক্ষণ করে এটা নিশ্চিত যে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড।

সুতরাং, স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: