গাইবান্ধায় জামায়াতের ২০০ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান দাবিতে আমার দেশের ভুয়া ফটোকার্ডে ভিন্ন ঘটনার ছবি যুক্ত করে প্রচার

সম্প্রতি, ‘গাইবান্ধায় জামায়াতে ইসলামীর দুইশত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান’ শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম আমার দেশ এর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়া, একই দাবিতে শুধু একটি ছবি যুক্ত করেও প্রচার হতে দেখা যায়।

আমার দেশের ফটোকার্ড যুক্ত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ)।

ছবি যুক্ত করে প্রচারিত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গাইবান্ধায় জামায়াতে ইসলামীর দুইশত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান’ শীর্ষক শিরোনামে আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও এমন কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক যোগদান করেন। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়ার ছবি এটি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আমার দেশের লোগো সম্বলিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, প্রকাশের তারিখ ০১ নভেম্বর উল্লেখ রয়েছে। উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে আমার দেশের ফেসবুক পেজে উক্ত দিনে এমন কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার। অনুসন্ধানে অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম বাহান্ন নিউজের ওয়েবসাইটে গত ২৪ অক্টোবর ‘জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির শতাধিক কর্মী-সমর্থক’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবির মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি থেকে জামায়াত ইসলামীতে প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক যোগদান করেছেন। জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়া নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

অর্থাৎ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করেননি বরং, বিএনপির কর্মীরা জামায়াতে যোগদান করেছেন।

একই ছবি ও তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে সময় টিভিও

সুতরাং, ভিন্ন ঘটনার ছবি যুক্ত করে ‘‘গাইবান্ধায় জামায়াতে ইসলামীর দুইশত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান’ শীর্ষক শিরোনামে আমার দেশের ফটোকার্ডটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: