গাইবান্ধায় মন্দিরের পুরোহিতের ওপর হামলা দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার 

গত ১৫ জুলাই রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সংঘর্ষের ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘গাইবান্ধা পলাশবাড়ী রাম মন্দিরে গিয়ে সেকুলাররা মন্দিরের পুরোহিত কে বেধড়ক মারছে রথযাত্রা যাতে না করা হয় সেজন্য বিরাট চাপ সৃষ্টি করছেন মৌলবাদী + কিছু জামাত শিবিরের জঙ্গিরা আপনারা এবার বলেন? এটা ধর্ম অবমাননা হচ্ছে না? নাকি বাংলাদেশে একজনরাই ধর্ম করে, আর কোন জাতের কোন ধর্ম কর্ম নাই কোনটা? সুশীল সমাজের লোকেরা একটু বলবেন আপনারা কি এটাকে সমর্থন করেন? ওনারা কিছু বললে সেটা হয় তালগাছ আর হিন্দুরা বললে সবকথাই বাল গাছে পরিনত হয় কারনটা একটু জানতে চাই আমি?ভগবান আছেন তোদের বিচার তিনি করবেন পাপে ছাড়েনা বাপেরে মনে রাখবেন কথাটা’।

অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে ভিডিওটি গাইবান্ধা পলাশবাড়ী রাম মন্দিরে মন্দিরের পুরোহিতদের ওপর হামলার দৃশ্যের।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন Mithila Bose (আর্কাইভ) এবং Bi PL Ab Bhattacharya (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি গাইবান্ধা পলাশবাড়ী রাম মন্দিরে পুরোহিতদের ওপর হামলার দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি গত ১৩ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক মন্দির প্রাঙ্গনে মন্দিরে আসা প্রণামীর টাকা ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষের ঘটনার দৃশ্যের।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যম ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র ওয়েবসাইটে গত ১৬ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি ভিডিওরও সংযুক্তি পাওয়া যায়, যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘(ভারতের উত্তর প্রদেশের) দেওরিয়া জেলার ঐতিহাসিক বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং মন্দিরের প্রণামী ভাগাভাগি নিয়ে পুরোহিতদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিবাদ চরম রূপ নেয় এবং তা একটি সহিংস সংঘর্ষে পরিণত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ উভয় পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেওরিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুন মদনপুর থানা এলাকার অন্তর্গত মাহেন গ্রামে অবস্থিত বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে। শোনা যাচ্ছে যে, পুণ্যার্থীদের পূজা দেওয়ার নিয়মকানুন পরিচালনা এবং মন্দিরে আসা প্রণামী সংক্রান্ত বিষয়ে দ্বিমত থেকেই এই ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। এই বিবাদ দ্রুতই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে এক হাতাহাতি ও শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।’ (অনূদিত)

এছাড়াও, অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টিভি৯’ এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে গত ১৪ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিও থেকে ধারণকৃত একটি স্থিরচিত্রেরও সংযুক্তি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার মদনপুর থানা এলাকার ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরে, মন্দিরে আসা প্রণামীর টাকা ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ১৩ জুনে দুটি পক্ষের মধ্যে বিবাদের ঘটনার দৃশ্য।

পাশাপাশি, ভারতীয় আরেক সংবাদমাধ্যম ‘ভাস্কর’ এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘(ভারতের উত্তর প্রদেশের) বরহজের মদনপুর থানা এলাকায় অবস্থিত বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের আধিপত্য এবং দানবাক্সের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গত শনিবার (১৩ জুন) দুটি পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এই ঘটনার সময় এক পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে অপর পক্ষের এক বয়স্ক পুরোহিতের ওপর চড়াও হয় ও তাকে আঘাত করে।…মারামারির এই ঘটনাটি বশিষ্ঠ গিরি এবং ত্রিপুরারি গিরি নামের দুটি পক্ষের মধ্যে ঘটেছিল। বলা হয়েছে যে, বশিষ্ঠ গিরির লোকজন ত্রিপুরারি গিরিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিল।..’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)

অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের উত্তর প্রদেশের।

সুতরাং, গাইবান্ধা পলাশবাড়ী রাম মন্দিরে মন্দিরের পুরোহিতদের ওপর হামলার দৃশ্য দাবিতে গত ১৩ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক মন্দির প্রাঙ্গনে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: