প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় জামায়াতের আমীর আটক দাবিতে এআই এর সাহায্যে তৈরি ছবি প্রচার 

সম্প্রতি কথিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের খালি গায়ে এক নারীর সাথে ধারণকৃত একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় জামায়াতের নেতা শফিকুর রহমান আটক’। এ বিষয়ে কিছু পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এটি ২০১৭ সালের খবর।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

আলোচিত ছবিটি জামায়াতের আমীরের দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় জামায়াতের আমীর আটক দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল ছবি নয় বরং, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ছবিটি আসল হওয়ার সপক্ষে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলে জামায়াতের আমীরের গড়ন, ত্বক, অঙ্গভঙ্গি ও পারিপার্শ্বিক সামগ্রিক অবস্থায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।

পাশাপাশি, প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার টিম গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ছবিটি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি।

পরবর্তীতে, এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘এআই অর নট’ এ আলোচিত ছবি বিশ্লেষণ করলে এটি এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা যায়।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রচারিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়াও, ২০১৭ সালে এরূপ কোনো ঘটনায় ডা. শফিকুর রহমানের আটক হওয়ার দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, ২০২২ সালে ‘জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে’ ডা. শফিকুর রহমানকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

সুতরাং, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় জামায়াতের আমীর আটক দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত।

তথ্যসূত্র

  • AI Analysis 
  • Rumor Scanner’s analysis
Share: