আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মন্তব্য দাবিতে আরটিভির নামে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি ইসলামিক বক্তা ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ছবি যুক্ত করে গণমাধ্যম আরটিভি এর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত একাধিক ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়, ‘সংসদে গেলেও মাজার ছাড়বোনা-তাহেরী পীর’।

অপর ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে আমি প্রধান মন্ত্রী এবং চরমোনাইকে রাষ্ট্রপতি করে মন্ত্রী পরিষদ গঠণ করা হবে-তাহেরী’।

আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘সৌদি আরবের ওহাবী ঠিক আছে কারন ওখানে দাদাগিরী ফতোয়া চলেনা, বাংলাদেশে সমস্যা কারন এখানে ভন্ডদের ব্যবসায় লালবাতি জ্বলে তবে ওহাবীদের ভোট নিতে সমস্যা নাই-তাহেরী’।

এবং অন্য একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘আরব দেশের অনুসারী যারা মিলাদ, তাবিজ, মজারে ওরস, গান বাদ্য মানেনা সেসব ওয়াহাবীদের ভোট আমার লাগবেনা-তাহেরী’।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে এবং চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিমকে জড়িয়ে মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মন্তব্য দাবিতে আরটিভি উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো বা কোনো সংবাদ প্রচার করেনি এবং গিয়াস উদ্দিন তাহেরীও এমন কোনো মন্তব্য করেননি৷ প্রকৃতপক্ষে, আরটিভির ভিন্ন শিরোনামের পৃথক দুটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে উক্ত কোনো দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এগুলোতে আরটিভির লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ ‘১৩ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে আরটিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আরটিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, আরটিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

তবে, আরটিভির ফেসবুক পেজে গত ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে আরটিভির লোগো এবং গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত, ‘নির্বাচনী হলফনামায় তাহেরীর ৩১ ভরি সোনা, স্ত্রীর নামে কিছুই নেই’ শিরোনামে আরটিভির উক্ত ফটোকার্ডটির মূল শিরোনামের স্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় পৃথকভাবে আলোচিত তিনটি ফটোকার্ডের শিরোনামগুলো প্রতিস্থাপন করে এসব ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে।

আরটিভির উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্য ঘরে দেওয়া ওয়েবসাইটের লিংকে একই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নামে আরটিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

চতুর্থ ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এগুলোতে আরটিভির লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ ‘১৩ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে আরটিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আরটিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, আরটিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

তবে, আরটিভির ফেসবুক পেজে গত ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে আরটিভির লোগো এবং গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত, ‘কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ’ শিরোনামে আরটিভির উক্ত ফটোকার্ডটির মূল শিরোনামের স্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ‘আরব দেশের অনুসারী যারা মিলাদ, তাবিজ, মজারে ওরস, গান বাদ্য মানেনা সেসব ওয়াহাবীদের ভোট আমার লাগবেনা-তাহেরী’ শিরোনামটি প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

আরটিভির উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্য ঘরে দেওয়া ওয়েবসাইটের লিংকে একই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নামে আরটিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নাম জড়িয়ে আরটিভির নামে প্রচারিত উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: