গোপালগঞ্জে হিন্দু ব্যক্তিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ইসলামপন্থীদের খুন করার দাবি সঠিক নয়

সম্প্রতি ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী #প্রোগ্রাম চলছে। #গোপালগঞ্জ জেলা থেকে খবর আসছে ইসলামপন্থীরা এক হিন্দু ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে হত্যা করেছে এবং তার মরদেহ ফেলে দিয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম নিশান্ত বৈদ্য। তিনি #বাংলাদেশ-এর #গোপালগঞ্জ জেলার #মুকসুদপুর উপজেলার #জলিরপার ইউনিয়নের #কলিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।’ (অনূদিত)

এরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আলোচিত নিশান্ত বৈদ্যকে সাম্প্রদায়িক কারণে ইসলামপন্থীদের হত্যা করার দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে নিহতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, স্থানীয় প্রতিবেশি দীপ্তি বৈরাগীর ছেলে পলাশ বৈরাগী এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত; পলাশ বৈরাগী নিজেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এ ঘটনায় মুসলিম বা ইসলামপন্থী কারোর জড়িত থাকার কোনো উল্লেখ নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘চ্যানেল আই’ এর ওয়েবসাইটে ‘গোপালগঞ্জে দেশী মদ তৈরির কারিগরকে পিটিয়ে হত্যা’ শিরোনামে গত ২২ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের কলিগ্রামে দেশী মদ তৈরীর কারিগর নিশান্ত বৈদ্যকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী পলাশ বৈরাগী। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুকসুদপুর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। পরিবারের লোকজনের অভিযোগের বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় প্রতিবেশি দীপ্তি বৈরাগীর ছেলে পলাশ বৈরাগী ৪/৫ দিন আগে মধ্যরাতে নিশান্ত বৈদ্যকে বাড়ী থেকে ডেকে অটো রিক্সায় করে গোয়াল গ্রাম নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। খবর পেয়ে বাড়ীর লোকজন নিশান্ত বৈদ্যকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
এছাড়াও, অনুসন্ধানে ‘টুঙ্গি পাড়া নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও এ ঘটনায় নিহতের বাড়ি থেকে ধারণকৃত কয়েকটি ভিডিও পাওয়া যায়। গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত এরূপ একটি ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘..পরিবারের দাবি রাতের আঁধারে (নিশান্ত বৈদ্যকে) ডেকে নিয়ে যায়, দীপ্তি বৈরাগীর ছেলে পলাশ বৈরাগী, অটো রিক্সায় করে গোয়াল গ্রামে নামক স্থানে নিয়ে নির্মম মারধর,করে পরে ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাক্তার মৃত্যু ঘোষণা করে..’। কয়েকটি ভিডিওর মন্তব্য সেকশনে কয়েকজনকে এটি দুর্ঘটনাজনিত কারণ ছিল বলেও দাবি করতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজনের ধর্ম পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার টিম যোগাযোগ করে মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সাথে৷ তিনি জানান, এ ঘটনায় অপরাধীর বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন/অভিযুক্ত পলাশ বৈরাগী মুসলিম নন বরং, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।
পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত ঘটনায় ইসলামপন্থীদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো উল্লেখ নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আলোচিত নিশান্ত বৈদ্যকে সাম্প্রদায়িক কারণে ইসলামপন্থীরা হত্যা করেছে শীর্ষক দাবি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Channel I – গোপালগঞ্জে দেশী মদ তৈরির কারিগরকে পিটিয়ে হত্যা
- Tungi Para News – Facebook Post
- Statement of Abdullah Al Mamun, OC, Muksudpur Police Station

