গ্রামীণ ব্যাংকে ম্যানেজার দ্বারা নারীদের হেনস্তার দৃশ্য দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, গ্রামীণ ব্যাংকের কথিত একটি শাখায় পাওনা টাকা আনতে গিয়ে একাধিক নারী শাখা ম্যানেজারের হামলার শিকার হয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া যায়, একজন ব্যক্তি চেয়ার উঁচিয়ে একাধিক নারীকে সেটি দিয়ে আঘাত করছেন।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো শাখায় টাকা আনতে গিয়ে মহিলাদের ম্যানেজারের দ্বারা মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের টিকামগড় জেলার একটি বিদ্যুৎ অফিসে গ্রামবাসীর হামলার ঘটনার।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে দেশের কোনো গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় এমন ঘটনা ঘটার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে প্লাবিক নামের ভারতীয় একটি সংবাদভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

সেখানে বলা হয়, ভিডিওটি ভারতের ভারতের মধ্যপ্রদেশের টিকামগড় জেলার লিধৌরা ঘটনা। মূলত, লিধৌরার রতনগুয়ান গ্রামে দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মার বিকল থাকায় গ্রামের নারী-পুরুষেরা গত ২ তারিখে বিদ্যুৎ অফিসে যান। এসময় তারা কেরানির কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। কিন্তু সেসময় এসব বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলেও পোস্টটি থেকে জানা যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যম দৈনিক ভাস্করের ওয়েবসাইট এবং নিউজ ১৮-এর ইউটিউব চ্যানেলেও একই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোতে উল্লিখিত ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদ্যুৎ অফিসে হামলার ঘটনায় সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়।

সুতরাং, ভারতে বিদ্যুৎ অফিসে গ্রামবাসীর হামলার ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকে পাওনা টানা আনতে গিয়ে মহিলাদের ওপর ম্যানেজারের হামলা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: