হবিগঞ্জে নারীকে এসিড নিক্ষেপকারী জেলা ছাত্রদল নেতা নন

সম্প্রতি, ‘হবিগঞ্জে কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এ’সি’ড নিক্ষেপ করলো হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিদয়।’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, হবিগঞ্জে নারীকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনার সাথে ছাত্রদলের কোনো নেতা জড়িত নন এবং হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রিয়াজুল ইসলাম রিদয় নামে কেউ নেই। প্রকৃতপক্ষে, সাবেক স্বামী কর্তৃক এক নারীকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনাকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ০৫ জুন ‘হবিগঞ্জে নারী শ্রমিকের মুখে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ভিডিও ফুটেজগুলোর সাথে আলোচিত ভিডিওটির দৃশ্যাবলীর সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় রুবিনা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী উজ্জ্বল মিয়ার (২৮) বিরুদ্ধে। গত ০৪ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই নারীর মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে উজ্জ্বলের সঙ্গে রুবিনার বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে, যারা বর্তমানে উজ্জ্বলের কাছে থাকে। তবে পারিবারিক নানা বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দেওয়ায় গত ৬ মাস আগে উজ্জ্বলকে ডিভোর্স (তালাক) দেন রুবিনা। তালাকের পর থেকেই উজ্জ্বল ক্ষিপ্ত হয়ে রুবিনার পিছু নেয়। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে যাতায়াতের পথে এবং কর্মস্থলে গিয়েও সে রুবিনাকে উত্যক্ত ও হুমকি দিত। ০৪ জুন রাতে রুবিনা তার কর্মস্থল থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বহুলা এলাকায় তার বাড়ির কাছাকাছি আগে থেকে অন্ধকারে উৎ পেতে থাকা উজ্জ্বল হঠাৎ তার পথ গতিরোধ করে এবং মুখে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় রুবিনাকে উদ্ধার করে প্রথমে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে অন্যান্য একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (, ) থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

উক্ত এসব প্রতিবেদন থেকে হামলাকারী উজ্জ্বল মিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, গত ০২ মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির তালিকা থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একমাত্র সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম গোলাম মাহবুব।

সুতরাং, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কর্তৃক এক নারীকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা দাবিতে সাবেক স্বামী কর্তৃক এক নারী শ্রমিককে এসিড নিক্ষেপের ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: