ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সাদিক কায়েমকে গ্রেফতারের দাবিটি ভুয়া

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর থেকে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ‘হাদী হামলার ঘটনায় ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম গ্রেফতার’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে গ্রেফতার করার দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইন সাইটে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনের বরাতে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির পোস্টে ‘protibadnews76.blogspot.com’ নামক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কথিত সংবাদ প্রতিবেদন লিংক সূত্র হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘protibadnews76.blogspot.com’ নামক ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। এই সাইটে ‘হাদী হামলার ঘটনায় ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম গ্রেফতার’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং তবে এর প্রকাশকাল হিসেবে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

কথিত এই সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘রাজধানীর বিজয়নগরে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভিপি ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ র‌্যাব ও ডিএমপির যৌথ অভিযানে মিরপুরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’

স্বাভাবিকভাবে, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ওসমান হাদির ওপর হামলার মতো আলোচিত ঘটনায় গ্রেফতার হলে তা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ঢালাওভাবে খবর প্রচার হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, আলোচিত দাবি গত ১৪ ডিসেম্বরে প্রচার করা হলেও আলোচিত দাবি প্রচারের পরবর্তী সময়ে ১৫ ডিসেম্বরে সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে সাদিক কায়েমের সশরীরে উপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করার বিষয়ে একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়। মূলত, ‘শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, ওসমান হাদির ওপর হামলায় সাদিক কায়েমের নাম সন্দেহভাজন হিসেবেও নেই। প্রকৃতপক্ষে, হাদিকে গুলি করার ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং হাদিকে হামলার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের স্ত্রী, শ্যালকসহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব। তবে ফয়সল করিমকে এখনও আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।

সুতরাং, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে গ্রেফতার করা হয়েছে শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: