হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তে সাদিক কায়েমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত শীর্ষক দাবিতে যমুনা টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার 

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ‘হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ – তদন্তে সাদিক কায়েমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত’ শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ – তদন্তে সাদিক কায়েমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত’ শিরোনামে যমুনা টিভি কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং এখন পর্যন্ত হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সাদিক কায়েমের কোনো সংশ্লিষ্টতা নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, যমুনা টিভির ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে যমুনা টিভির নাম ও লোগো রয়েছে। এরই সূত্র ধরে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সপক্ষে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে গত ১২ ডিসেম্বর ‘রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি | ওসমান হাদী প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম’ তথ্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। যমুনার মূল ফটোকার্ডটিতে ‘রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি | ওসমান হাদী প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ – তদন্তে সাদিক কায়েমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে যমুনা টিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত যমুনা টিভির পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

পাশাপাশি, ওসমান হাদির ওপর হামলায় সাদিক কায়েমের নাম সন্দেহভাজন হিসেবেও নেই। প্রকৃতপক্ষে, হাদিকে গুলি করার ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ফয়সাল করিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগমসহ তিনজনকে গত ১৬ ডিসেম্বর আটক করা হয়েছে। এর আগে ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে মো. হান্নান ও সহযোগী কবীর আটক করা হয়। এছাড়াও ময়মনসিংহ সীমান্ত থেকে তাকে পাচারে সহায়তার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়।

সুতরাং, ‘হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ – তদন্তে সাদিক কায়েমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত’ শিরোনামে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: