ওসমান হাদীকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছাত্রশিবিরের কর্মী নয়

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। এরই প্রেক্ষিতে অনলাইনে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, ‘সব কিছুই পরিকল্পনা করেই চলছে.আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বর্তমানে শিবির কর্মী দাউদ বিন ফয়সাল,শরীফ উসমান হাদীকে গুলি করেছে — চশমা পরা ব্যক্তিই সন্তাসী ফয়সাল তাকে গ্রেফতার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

অর্থাৎ, দাবি করা হচ্ছে, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান বর্তমানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মী।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান বর্তমানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মী নন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও তিনি ছাত্রলীগের হয়ে নানা মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে ও জামায়াত-শিবিরের বিপক্ষে নানা পোস্ট করেছেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Md Nazim Uddin’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফয়সাল করিমের ছবিসহ ২০১৯ সালের ১৪ মে তারিখে প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে সেসময়ের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকার একটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাএলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় বন্ধু Faisal Karim Daud Khan কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’।

এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ এর ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালের ১৩ মে তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ মে তারিখে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিবেদনটিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকাও পাওয়া যায়। উক্ত তালিকার ১৭তম পাতায় সদস্য পদে ‘ফয়সাল করিম দাউদ খান’ এর নাম পাওয়া যায়। এছাড়াও, সেসময়ের নানা পোস্টেও উক্ত কমিটির তালিকা পাওয়া যায় যাতে ‘ফয়সাল করিম দাউদ খান’ নামের সংযুক্তি পাওয়া যায়। অর্থাৎ, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরবর্তীতে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Jamal Kazi’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘Mehedi Hasan’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের একটি মিছিলের ভিডিও পোস্ট গত ২৮ অক্টোবরে শেয়ার করতে দেখা যায়। মেহেদী হাসানের মূল পোস্টে বলা হয়, ভিডিওটি গত ২৮ অক্টোবর ঢাকা মোহাম্মদপুরে ঢাকা–১৩ আসনের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের দৃশ্য। উক্ত পোস্ট শেয়ার করা ‘জামাল কাজী’র পোস্টের ক্যাপশনে হাদির ওপর হামলায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদকে উল্লেখ করে লেখা হয়, ‘স্পেশাল ভাবে ধন্যবাদ জানাই Faisal Karim Masud ভাইকে এরকম ব্যাকআপ টিম রাখার জন্য। মিছিলে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এছাড়াও, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেও গত ২৮ অক্টোবরে ‘অবৈধ ইউনুস সরকারের পদত্যাগের দাবীতে ঢাকা ১৩ আসনের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল’ শীর্ষক ক্যাপশনে প্রচারিত একটি মিছিলের ভিডিও পাওয়া যায় যাতে ফয়সাল করিম মাসুদকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে ফয়সাল করিম মাসুদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে এবং জামায়াত-শিবিরসহ ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে ক্রমাগত নানা পোস্ট প্রচার করতে দেখা যায়। (,,,) এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরবর্তী সময়েও শেখ হাসিনাকে এখনও বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেও নানা পোস্ট করতে দেখা যায়।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ফয়সাল করিম মাসুদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবেই ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেননি।

সুতরাং, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে বর্তমানে ছাত্রশিবির কর্মী দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: