পুরো পায়ে প্লাস্টার পরিহিত হামজা চৌধুরীর ছবিগুলো এআই-নির্মিত

ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে গত ৩১ জানুয়ারি চার্লটনের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়েন হামজা চৌধুরী। ওই ম্যাচের আধাঘণ্টা যেতেই হাঁটুতে পাওয়া চোটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ও ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের এই খেলোয়াড়। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি হামজা চৌধুরীর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামজা চৌধুরী দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, হামজা চৌধুরীর ভিন্ন একটি ছবিকে ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় এই ছবি দুই তৈরি করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে এতে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়; যেমন- ছবিতে দৈর্ঘ্যে অত্যন্ত ছোট একটি মেডিকেল বেড দেখা যায় এবং হামজা চৌধুরীর পায়ে থাকা ব্রেসটিকেও অস্বাভাবিক মনে হয়।

পরবর্তীতে ছবিগুলোর বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘Hive Detect ’ এর মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৭.৮ শতাংশ।

আলোচিত ছবিগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যমে (, ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবিগুলোর উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে প্রচারিত উক্ত ছবিটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি হামজা চৌধুরীর সম্মানার্থে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের দৃশ্য। 

উক্ত এসব প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ছবিটি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত ছবিগুলো তৈরি করা হয়েছে।

উক্ত এসব প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে গত ৩১ জানুয়ারি চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে ম্যাচে ডান হাঁটুতে চোট পান লেস্টার সিটির বাংলাদেশি তারকা হামজা চৌধুরী।

ব্যথায় কাতর হামজাকে কিছুক্ষণ মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর লেস্টার সিটি জানতে পেরেছে, হামজার চোট বেশ গুরুতর। তার ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত (এমসিএল ইনজুুরি) হয়েছে। পুরোপুরি সেরে উঠতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো হামজার হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়বে না।

তাছাড়া, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে আলোচিত ছবিগুলো সংযুক্ত করে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামজা চৌধুরীর পুরো পায়ে প্লাস্টার বাঁধা কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থার সঙ্গে এসব ছবির কোনো সম্পর্ক নেই। সমর্থকদের অনুরোধ করা হয়- যাচাই বাছাই না করে যেন কোনো তথ্য বা ছবি ছড়িয়ে না দেওয়া হয় এবং সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অফিসিয়াল যোগাযোগমাধ্যম অনুসরণ করা হয়৷

সুতরাং, পুরো পায়ে প্লাস্টার পরিহিত ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামজা চৌধুরী দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো এআই-নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: