রায় ঘোষণার পর ভারতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার কান্না দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর এ রায় দেন। এর প্রেক্ষিতেই রায় ঘোষণার পর ভারতে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন শেখ হাসিনা শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন এখানে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রায় ঘোষণার পর ভারতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার কান্না দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। বরং, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে বিটিভি ভবনে অগ্নিসংযোগ ঘটনা পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা কর্তৃক ভবনটি পরিদর্শনের পর সাক্ষাৎকার দেওয়ার ভিডিওকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কথাCom নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে কেঁদে দিয়েছেন। তবে ভিডিওটি কবের সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি এই ভিডিওতে।

পরবর্তীতে, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম মাই টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই ‘বিটিভি ভবনের ধ্বংসযজ্ঞ নিজ চোখে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিওর পারিপার্শ্বিক উপাদানের সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ভিডিও থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনা বিটিভিতে আগুন লাগানোর ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে জঙ্গীবাদ আখ্যা দেন, এবং দেশবাসীকে এই জঙ্গীবাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দোয়া করতে বলেন।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভবনে আগুন দেন আন্দোলনকারীরা।

অর্থাৎ, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়৷

এদিকে, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। রায়ের পর প্রকাশিত পাঁচ পৃষ্ঠার বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগকে দুর্বল করা এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে নিস্ক্রিয় করতে ‘মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া’। তবে তাকে ভারত বা অন্য কোনো দেশের গণমাধ্যমে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায়নি।

সুতরাং, রায় ঘোষণার পর ভারতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার কান্না দাবিতে ২০২৪ সালের পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: