পুলিশ হত্যার দায় শেখ হাসিনার নেওয়া সংক্রান্ত মোস্তফা ফিরোজের মন্তব্য দাবিতে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও আলোচক মোস্তফা ফিরোজকে উদ্ধৃত করে ‘পুলিশ হত্যার দায় ছাত্রদের না। হাসিনার নির্দেশে পুলিশ ছাত্রদের হত্যা করতে গিয়ে নিজেরাই উল্টো ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে হত্যার শিকার হয়েছে। তাই পুলিশ হত্যার দায়ও খুনি হাসিনাকেই নিতে হবে’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘পুলিশ হত্যার দায় ছাত্রদের না। হাসিনার নির্দেশে পুলিশ ছাত্রদের হত্যা করতে গিয়ে নিজেরাই উল্টো ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে হত্যার শিকার হয়েছে। তাই পুলিশ হত্যার দায়ও খুনি হাসিনাকেই নিতে হবে’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালের কণ্ঠের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডে কালের কণ্ঠের লোগো ও তারিখ হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ থেকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এমন ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে ২৫ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় আচার লঙ্ঘন করেছেন। আইন ভঙ্গ করেছেন। রাষ্ট্রপতি আজ এসব গোমর ফাঁস করেছেন। এতেই জামায়াত খেপে গেছে শীর্ষক তথ্য বা শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের প্রথম অংশটি ঠিক থাকলেও নিচের লেখার ফন্ট ভিন্ন এবং আকারেও খানিকটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। 

মূল ফটোকার্ডটিতে ‘ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় আচার লঙ্ঘন করেছেন। আইন ভঙ্গ করেছেন। রাষ্ট্রপতি আজ এসব গোমর ফাঁস করেছেন। এতেই জামায়াত খেপে গেছে’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে উপরের অংশে সম্পাদনা করে এর সাথে ‘পুলিশ হত্যার দায় ছাত্রদের না। হাসিনার নির্দেশে পুলিশ ছাত্রদের হত্যা করতে গিয়ে নিজেরাই উল্টো ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে হত্যার শিকার হয়েছে। তাই পুলিশ হত্যার দায়ও খুনি হাসিনাকেই নিতে হবে’ শীর্ষক বাক্য যুক্ত করা হয়েছে। 

অর্থাৎ, কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সংবলিত কালের কণ্ঠের পোস্টে মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ড. ইউনূসের গোমর ফাঁস করায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর জামায়াত খেপেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বুধবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বিশ্লেষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। আরও জানা যায়, রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার : ‘রাষ্ট্রের মর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ’ শিরোনামে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই বিবৃতিতের সমালোচনা করে সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছিলেন, জামায়াত মনে করে রাষ্ট্রপতির মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। কিন্তু যখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আন্দোলন হচ্ছিল, তখন কি জামায়াত কোনো প্রতিবাদ করেছিল? তারা কি বলেছিল যে সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদে থাকা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের জন্য বঙ্গভবন ঘেরাও করা অনুচিত? তারা তো তখন এর কোনো কথা বলেননি। তখন কোন আইনের বলে বঙ্গভবন ঘেরাও হয়েছিল? তিনি বলেন, ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় আচার লঙ্ঘন করেছেন। আইন ভঙ্গ করেছেন।

পাশাপাশি অন্য গণমাধ্যম এবং বিশ্বস্ত সূত্রগুলোর বরাতেও আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি৷

সুতরাং, মোস্তফা ফিরোজ ‘পুলিশ হত্যার দায় ছাত্রদের না। হাসিনার নির্দেশে পুলিশ ছাত্রদের হত্যা করতে গিয়ে নিজেরাই উল্টো ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে হত্যার শিকার হয়েছে। তাই পুলিশ হত্যার দায়ও খুনি হাসিনাকেই নিতে হবে’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: