সম্প্রতি, “এই সাত বছরের শিশুটির অপরাধ সে হিন্দু আর বড় অপরাধ সে বাংলাদেশে জন্মেছে আজ সে নেই ধর্ষন শেষে হত্যা করল ইউনোস এর শান্তিবাহিনী ছি: এটা জাতীর লজ্জা এটা সম্পুর্ণ মানব জাতীর কলঙ্ক।।” শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি হিন্দু হওয়ায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও। বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি করে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভিন্ন ও মিথ্যা দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘সুজন কমেডি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। তবে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ভিডিওটি ওই পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে পেজটির অন্যান্য কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করে একই শিশু কন্যাকে নিয়ে নির্মিত আরও কয়েকটি ভিডিও পাওয়া যায়।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর পেজটিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটিকে একটি রডের সঙ্গে গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘জাস্ট ফান’। অর্থাৎ, এটি একটি বিনোদনধর্মী ভিডিও।
এছাড়া, গত বছরের ১ নভেম্বর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে একই শিশুকে একটি রডের ওপর হেলে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির শেষের দিকে শিশুটি উঠে মুখভঙ্গি করে।

এসব ছাড়াও পেজটিতে একই ধরনের আরও কিছু ভিডিও (১, ২, ৩) দেখা যায়। অর্থাৎ, এসব ভিডিও কোনো বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট।
উল্লেখ্য, আগেও বাবা আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় কন্যা শিশুকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে দাবিতে উক্ত ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সেসময় এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।
সুতরাং, সাজানো বা অভিনীত ভিডিওকে হিন্দু হওয়ায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- সুজন কমেডি: Facebook Page
- Rumor Scanner’s analysis


