শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের মোড়কে ভুয়া মন্তব্যের ছড়াছড়ি

বৈরী আবহাওয়ায় গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে ১৪ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত ১৩ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় থেকেই অনলাইনে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যায়। এদিকে অনলাইনে এরই প্রেক্ষিতে ছড়িয়েছে একের পর এক ব্যক্তির নামে ভুয়া মন্তব্য। এসব অপতথ্যের সূত্রপাত নানা ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজ থেকে হলেও তা আসল দাবিতে দেদারসে ফেসবুক ভিত্তিক নানা গ্রুপ ও পেজে ছড়ানো হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ভুয়া মন্তব্যের ছড়াছড়ি
গত ১৩ জুলাই রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীরূপে পতিত ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে; এদেরকে কঠোরহস্তে দমন করা হবে।’ কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, রুহুল কবির রিজভী এরূপ কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রকৃতপক্ষে ‘Gupto Television’ নামের এক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে সার্কাজম হিসেবে সূত্রপাত হওয়া পোস্টকে আসল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এসব পোস্টে নানা মানুষজন বিভ্রান্ত হয়ে তা রুহুল কবির রিজভীর আসল মন্তব্য ধরে নিয়েছেন এবং এসব পোস্টের মন্তব্য সেকশনে নেটিজেনদের রুহুল কবির রিজভীকে নিয়ে গালিগালাজ ও বিদ্রুপ করতে দেখা যায়।
একইরাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, ‘যে দেশের প্রধানমন্ত্রীই ইন্টারপাশ সেখানে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তোমরা কিভাবে দেখো? ময়লা পানি সাঁতরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছো, এটাই তো অনেক, পাসের চিন্তা বাদ দাও!’

তবে এ দাবিটিও সঠিক নয়। মূলত, ‘Bengali Steam’ নামের এক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে এ দাবির উৎপত্তি। এসব পোস্টের মন্তব্য সেকশনেও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে উদ্দেশ্য করে নানাররকম গালিগালাজ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপ করতে দেখা যায়।
এছাড়াও, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়, ‘সারা বছর কোনো পড়াশোনা করবে না আর পরীক্ষা আসলেই যত অযুহাত; শিক্ষার্থী নামধারী ফ্যাসিস্টের দোসরদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ছাত্রদল প্রস্তুত!’

তবে এ পোস্টের সূত্রপাতও গত ১৩ জুলাই রাতে ‘Gupto Television’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে। প্রকৃতপক্ষে রাকিবুল ইসলাম এমন কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মন্তব্যটি আসল ধরে অনেক নেটিজেনরাই ছাত্রদল সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ছাত্রত্ব নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মন্তব্য করেন।
পাশাপাশি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমানের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়, ‘এর থেকে বেশি কষ্ট করে আমরা পরীক্ষা দিয়েছি; শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো উস্কানিমূলক কথা বললে আমরা ছাত্রদল কিন্তু বসে থাকবো না!’

মূলত এ পোস্টের সূত্রপাতও ‘Gupto Television’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজের গত ১৩ জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। আমানউল্লাহ আমানও এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ১৪ জুলাই এসব অপতথ্যে জোয়ার আসে। অপতথ্যের কবলে পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরও। তার মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, ‘আন্দোলনকারীদের কত বড় সাহস প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে দেয়; ওদের দমন করতে আমরা ছাত্রদল সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামছি!’

মূলত, ‘Bengali Steam’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে এ দাবিরও উৎপত্তি।
এছাড়াও, আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আশ্বিন মাস এলে কুকুর যেমন পাগল হয়ে রাস্তায় ঘুড়ে বেড়ায়, তেমনি জুলাই এলে শিক্ষার্থীরাও কোন যৌক্তিক কারন ছাড়াই রাস্তায় নেমে আসে! শিক্ষামন্ত্রী কেন পদত্যাগ করবে? তার ব্যর্থতা কি? চাইলাম আর পদত্যাগ করে চলে গেল-এটা কি মগের মুল্লুক নাকি ?’ তবে প্রকৃতপক্ষে রুহুল কবির রিজভী এমন কোনো মন্তব্যও করেননি।

পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, ‘কতগুলা টো”কাই, মা”দকাসক্ত পোলাপান আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ এদের শক্তহাতে দমন করতে হবে!’

তবে এ দাবিও সঠিক নয়। সালাহউদ্দিন আহমদও এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ‘Gupto Television’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকেই এ ভুয়া দাবিরও উৎপত্তি হয়েছে।
এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়, ‘শিক্ষামন্ত্রী মিলন সাহেব দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন; উনার পদত্যাগের দাবি কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি হতে পারে না!’

প্রকৃতপক্ষে এ মন্তব্যটিও ভুয়া। ‘Bengali Steam’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ আবিদুলের নামে এই ভুয়া মন্তব্যটি সর্বপ্রথম ছড়িয়েছে।
অপতথ্যের এ প্রবাহ থেকে বাদ যাননি অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতা মারজুক রাসেলও। তার নামে প্রচার করা হয়, ‘যেখানে “মিলন” একটি অশ্লীল শব্দ, সেখানে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করাও বোকামী। উনাকে পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী বানান, কারও অবজেকশন থাকবেনা। সবাই আসল “মিলনে” ব্যস্ত থাকবে।’

মূলত এ দাবিরও সূত্রপাত হয়েছে ‘Gupto Television’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে। মারজুক রাসেল আসলে এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে দাবি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করলে আমরা শিক্ষার্থীদের পদত্যাগ করিয়ে দিবো।’ প্রকৃতপক্ষে এ দাবিও সঠিক নয়।

এবারের এ দাবির সূত্রপাত ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামক এক সার্কাজম পেজ থেকে। মূলত গত ২৯ এপ্রিল সংসদে সরকারকে পতন করার হুমকি দিলে রাজপথেই তার জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা (বিরোধী দল) যদি আমাদেরকে পতন করার হুমকি দেন, তাহলে বিরোধী দলের অবস্থান থেকে আপনাদেরকেই পতন ঘটানো হবে ইনশাল্লাহ।’ ইশরাক হোসেনের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবারের ভুয়া মন্তব্যটি তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, ‘ছিলেন ছাত্র, বানাইলো রাজাকার। বিপ্লব শেষ, হইলেন ফার্মের মুরগি। আসলে আমরা কেউই মুরগি ছিলাম না, ২৪-ই আমাদের মুরগি বানিয়ে সংসদ দখলে নিয়েছে। বিরিয়ানি দিয়ে আমন্ত্রণ আর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিদায়। জামায়াত-শিবির-বিএনপি পুরো একটি জেনারেশন-কেই মুরগি বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।’

তবে আনিস আলমগীর এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ‘Bengali Steam’ নামের ব্যঙ্গাত্মক পেজ আনিস আলমগীরের নামে সর্বপ্রথম এ ভুয়া দাবি ছড়িয়েছে।
এমন ভুয়া মন্তব্যের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীও। তার নামে প্রচার করা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীরা থাকবে পড়ার টেবিলে, তাদের আবার কিসের আন্দোলন; সরকারকে বলবো শক্তহাতে এদের দমন করতে যাতে তৃতীয়পক্ষ সুযোগ না নিতে পারে’।

প্রকৃতপক্ষে মোনামী এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ‘Gupto Television’ নামক সার্কাজম পেজ এই ভুয়া মন্তব্য মোনামীর নামে সর্বপ্রথম প্রচার করেছে।
এছাড়াও, দাবি করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘সমন্বয়ক ছাড়া কোনো ছাত্র আন্দোলন হয় না; শিক্ষার্থীদের সমন্বয়কের প্রয়োজনীয়তা মিটাতে এনসিপির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে।’

তবে সারজিস আলমও এমন কোনো মন্তব্য করেননি। এ দাবিরও সূত্রপাত ‘Gupto Television’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজটি।
উপরোক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোর মন্তব্য সেকশন পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এসব মন্তব্য আসল ধরে এখানকার প্রতিটি ব্যক্তিবর্গকে মন্তব্য সেকশনে নেটিজেনরা গালিগালাজ বা বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেছেন।
অপতথ্যের কবলে শিক্ষামন্ত্রী: ভুয়া মন্তব্যের হিড়িক
এ অপতথ্যের জালে জড়ানো হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীকেও। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়, ‘অটো পাশ করে আসা স্টুডেন্টগুলা যারা ফেল করার ভয়ে পরীক্ষা দিতে চাওনা, তারা মাদ্রাসায় চলে যাও; এমনিতেও তোমরা দেশের কোনো কাজে আসবে না।’

তবে এ দাবি সঠিক নয়। শিক্ষামন্ত্রী এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ‘Gupto Television’ নামের ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকেই এ দাবিরও সূত্রপাত হয়েছে।
এছাড়াও, দাবি করা হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘ফিজিক্সের ৬ ও ৭ প্রশ্নটি ভুল হলেও প্রশ্নপত্রটি এবছর তৈরী করা নয়। এটি আওয়ামী আমলের প্রশ্ন। এই ভুলের দায় শিক্ষামন্ত্রী কেন নিবে?’

মূলত এ মন্তব্যটিও সঠিক নয়। ‘Gupto Television’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ গত ১৪ জুলাই এ দাবিটি সর্বপ্রথম প্রচার করেছে। প্রকৃতপক্ষে প্রশ্নপত্রে ভুল বিষয়ে জাতীয় সংসদে গত ১৪ জুলাই এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে।’ অর্থাৎ, শিক্ষামন্ত্রী এক্ষেত্রে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে নয়।
এছাড়াও, শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, ‘আন্দোলনকারীদের কেউ সাধারণ ছাত্র না, এরা সবাই পলাতক স’ন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নব্য সদস্য; প্রত্যেকটার নাম লিস্ট করে বিচার করা হবে।’ তবে আগের মন্তব্যগুলোর মতো এটিও ভুয়া। ‘Gupto Television’ নামের ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজ এ দাবির উৎপত্তিস্থল।

পাশাপাশি, আরো দাবি করা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা পকেটে করে নকল নিয়ে গিয়েছিল, রাস্তায় কোমরসমান পানি ভেঙে যেতে গিয়ে সেগুলো ভিজে গেছে। তাই এখন তারাই আমার পদত্যাগের দাবি তুলছে।’

এ দাবিটিও ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামক ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে ছড়িয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষামন্ত্রী এমন মন্তব্য করেননি।
তাছাড়া, শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য দাবিতে আরো চারটি ভুয়া মন্তব্যও প্রচার করা হয়েছে যেগুলোর সূত্রপাত এমন ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে হয়েছে। উক্ত চারটি মন্তব্যের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলাদা ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
সার্কাজম পেজ থেকে সূত্রপাত হওয়া উপরোক্ত এমন ২০টি অপতথ্যের মধ্যে সার্কাজম পেজ ‘Gupto Television‘ এর কনটেন্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ‘Gupto Television’ পেজটি থেকে ১২টি অপতথ্যের সূত্রপাত, যা শতকরা হিসেবে ৬০ শতাংশ। এছাড়া, ‘Bengali Steam‘ পেজটি থেকে ৫টি অপতথ্যের সূত্রপাত যা শতকরা হিসেবে ২৫ শতাংশ এবং ৩টি অপতথ্যের সূত্রপাত হয়েছে ‘দৈনিক মোল্লার দেশ‘ নামের ফেসবুক পেজ থেকে যা শতকরা হিসেবে ১৫ শতাংশ।
এর মধ্যে বিএনপিকে জড়িয়ে ১১টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে জড়িয়ে ৪টি প্রচার করা হয়েছে যার সবগুলোই দলটির জন্য নেতিবাচক। এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে জড়িয়ে ২টি প্রচার করা হয়েছে যার ২টিই দলটির জন্য নেতিবাচক।
সার্বিকভাবে পর্যালোচনায় দেখা যায় এসব ক্ষেত্রে মূলত কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বিএনপিবিরোধী নানা ফেসবুক গ্রুপে পোস্টের মাধ্যমে অনলাইনে এরূপ দাবি ছড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সূত্রপাত হওয়া ব্যঙ্গাত্মক পেজগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায় এসব পেজও মূলত আওয়ামীঘেঁষা এবং নানা ট্রেন্ডিং বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নানা ব্যক্তিবর্গকে টার্গেট করে তাদের নামে এসব ভুয়া বক্তব্য প্রচার করে থাকে। এছাড়াও, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর নামে পরিচালিত কতিপয় আন-অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপেও এসব ভুয়া মন্তব্যগুলো প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, এসব পোস্টে কোনো ডিসক্লেইমারের উল্লেখ না থাকায় এবং ডিজাইন বেশ পরিপাটি হওয়ায় নেটিজেনদের অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে ভুয়া বক্তব্যের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করে থাকেন।

