সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকজন নারীদের একটি ছবি সংযুক্ত করে তৈরি এক ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘আফগানিস্তান বৈধ করল দাসী প্রথা বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে নারী!’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি আফগানিস্তানে নারী কেনাবেচার ছবি নয় বরং, গত বছরের রমজান উপলক্ষে দানকৃত খাদ্যসামগ্রী নিতে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা আফগান নারীদের ছবি আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উক্ত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশীয় সংবাদমাধ্যম ‘জনকণ্ঠ’ এর লোগোর আদলে তৈরি ‘মবকণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১ ফেব্রুয়ারিতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। তবে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে ‘মবকণ্ঠ’ এর লোগোর অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।
‘মবকণ্ঠ’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের বায়োতে উল্লেখ পাওয়া যায়, ‘এটি শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি প্যারোডি পেজ।’ (অনূদিত)
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে সংযুক্ত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’ এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায় যাতে ছবিটির বর্ণনায় বলা হয়, ‘২৫ মার্চ ২০২৫ কাবুলে ইসলামি পবিত্র রোজার মাস রমজান উপলক্ষে দানকৃত খাদ্যসামগ্রী নিতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা বোরকা-পরা আফগান নারীদের পাশে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন তালেবান নিরাপত্তাকর্মীরা।’ (অনূদিত)

এছাড়াও, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ এর ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদনেও আলোচিত ছবিটি আফগানিস্তানে খাবারের জন্য অপেক্ষারত নারীদের ছবি বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আফগানিস্তানের আইনে দাসপ্রথা ফিরিয়েছে তালেবান দাবিতে নানা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানে কর্মরত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মী পল ব্রাউন তার এক লেখায় দাবি করেন, ‘আইনটি নিয়ে যে সব চাঞ্চল্যকর দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর কিছু আইনটির লিখিত ভাষা যা বলে, তার চেয়ে বেশি আরোপ করে দেখানো হচ্ছে।’ অর্থাৎ, দাসপ্রথার দাবি নিয়ে বেশ মতপার্থক্য আছে।
সুতরাং, আফগানিস্তানে বাজারে নারী কেনাবেচার দৃশ্য দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- মবকন্ঠ। Mobkantha – Facebook Post
- Forbes – Internet Shutdown In Afghanistan Threatens Women’s Education And Human Rights
- The Guardian – ‘It means death’: Afghan women’s rights activists face deportation from Pakistan


