ছবিটি তুরস্ক থেকে শিশুদের অপহরণ করে এপস্টিনকে সরবরাহ করার ঘটনার নয়

১৯৯৯ সালের ১৭ আগস্ট তুরস্কের ইজমিট শহরে আঘাত হাতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। যাতে প্রায় ১৭ হাজারেরও অধিক মানুষ প্রাণ হারায়। সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ছবিটি সেসময় তুরস্ক থেকে বাচ্চাদের অপহরণ করে আলোচিত জেফরি এপস্টিনের কাছে সরবরাহ করার মুহূর্তের। এছাড়াও প্রচারিত পোস্টটিতে দাবি করা হয়, এপস্টিনের কথিত এক সহযোগী স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সেসময় তারা অপহৃত প্রতিটি শিশুর জন্যে ৩০০ ডলার করে পেতেন।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে একই ছবি সংবলিত করা পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিটি ১৯৯৯ সালে তুরস্ক থেকে শিশু অপহরণের ঘটনায় নয়। এছাড়াও এর সাথে জেফরি এপস্টিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রকৃতপক্ষে, ছবিটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের মুহূর্তে সেখান থেকে অনাথ শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার মুহূর্তে ধারণ করা।

এবিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এপস্টিন ফাইলে আলোচিত ছবিটির সন্ধান মেলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও তুরস্কের ভূমিকম্পের সময়ে সেখান থেকে ৩০০ ডলারের বিনিময়ে শিশুদের অপহরণের দাবিটিরও সত্যতা মেলেনি।

পরবর্তীতে ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের Defense Intelligence Agency – এর ওয়েবসাইটে ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল প্রচারিত উক্ত ছবি সংবলিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যাচনা করে শিশুদের সাথে একাধিক ব্যক্তির ছবির পাশাপাশি আলোচিত ছবিতে দেখতে পাওয়া নারীর আরেকটি ছবির সন্ধানও পাওয়া যায়। জানা যায়, ছবিগুলো ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের মুহূর্তে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সেখানে থাকা অনাথ শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপারেশন বেবীলিফট নামের একটি অপারেশন পরিচালনা করা হয়। ছবিগুলো সেই অপারেশনের মুহূর্তের।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ছবিতে দেখতে পাওয়া অপারেশন বেবীলিফটের প্রথম এই ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে বিধ্বস্ত হয়। যাতে প্রায় ১৩৮ জন নিহত নয়।

অপারেশন বেবীলিফট সম্পর্কটি আরেকটি প্রতিবেদনেও একই তথ্যগুলো পাওয়া যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, আলোচিত ছবিটির সাথে এপস্টিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুতরাং, ভিয়েতনাম যুদ্ধের মুহূর্তে অনাথ শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার ছবিকে তুরস্কের ভূমিকম্পের সময় সেখান থেকে শিশুদের অপহরণ করে এপস্টিনের কাছে বিক্রয় করার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: