ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থী নয়, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী খুন হয়েছে

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের শিরোনামে দাবি করা হয় যে ময়মনসিংহে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। অপর এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জামায়াত-শিবির হত্যা করেছে। 

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবির অনলাইন নিউজ পোর্টালের শিরোনাম দেখুন বাংলাদেশ টাইমস।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী খুন হননি এবং এর সঙ্গে জামায়াত-শিবিরেরও কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃতপক্ষে, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর একজন কর্মী নিহত হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আজকের পত্রিকার ওয়েবসাইটে গত ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ধোবাউড়া উপজেলায় নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। উপজেলার এরশাদ বাজারে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে বিডিনিউজ২৪-এর ১৭ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর উপজেলার এরশাদ বাজারে নিজের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে বিএনপি প্রার্থী প্রিন্সের সমর্থকরা হঠাৎ নজরুল ইসলাম (৪৫)-এর ওপর হামলা চালায়। তাকে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, উক্ত ঘটনায় ৬৩ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। যার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

সুতরাং, ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থী হত্যা শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: