ভারতের বারুইপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের বলে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে একটি পুকুর থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনাটি বাংলাদেশের। পোস্টগুলোর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “বারুইপুরে নাবালিকা মেয়ে কে ধর্ষণ করে খুন। মনে রেখো বাংলাদেশ, এর বিচার কিন্তু একদিন এই বাংলার মাটিতেই হবে ইনশাআল্লাহ।”

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, পুকুর থেকে উক্ত শিশুর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য এটি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে @VloggerCalcutta নামের একটি এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে গত ৬ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১২ বছরের মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী দৃশ্য। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ঘটনাটি নিয়ে ৮ জুলাই প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের বরাতে জানানো হয়, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১২ বছর বয়সী ওই শিশুর শরীরে ২৮টির বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার পাকস্থলীতে পানি পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, পুকুরে ফেলে দেওয়ার সময় সে জীবিত ছিল। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং মাথায় আঘাতজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়, কামড় ও আঘাতের চিহ্ন এবং মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার আলামতও পাওয়া গেছে। তবে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে। (,,,,)

সুতরাং, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবি করে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: