সম্প্রতি, ভারতের মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা’ এক খ্রিস্টান মা ও মেয়েকে অপহরণ করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি মণিপুরের কোনো ঘটনা নয় এবং এতে হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা খ্রিস্টান মা-মেয়েকে অপহরণের কোনো প্রমাণও মেলেনি। প্রকৃতপক্ষে, এটি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরিতে মেহক নামের এক নারী ও তার তিন মাস বয়সী কন্যা আরোহীকে অপহরণের ঘটনার ভিডিও। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মেহকের লিভ-ইন সঙ্গী পুষ্পেন্দ্র চৌহানের নাম উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির ওয়েবসাইটে একই ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রদেশের শিবপুরিতে এক নারী ও তার মেয়েকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০ জনের একটি দল জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ওই নারীর লিভ-ইন সঙ্গীর নাম সামনে এসেছে। জানা গেছে, তিনি কয়েক দিন ধরে তাকে হুমকি ও হয়রানি করছিলেন।

পরবর্তীতে ভারতের আরেক গণমাধ্যম দৈনিক ভাস্করের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত পুষ্পেন্দ্র চৌহান ৮-১০ জন সহযোগীকে নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা হাতে বাড়িতে প্রবেশ করে ২২ বছর বয়সী মেহক ও তার শিশুকন্যাকে অপহরণ করে। এ ঘটনায় মেহকের মা নীলম গুহারিয়া মামলা দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান, তার মেয়ে গত তিন বছর ধরে পুষ্পেন্দ্রর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। নির্যাতনের অভিযোগে সম্প্রতি তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। হামলার সময় নীলম গুহারিয়া ও তার স্বামী তৃপ্তেশ গুহারিয়া অভিযুক্তদের বাধা দিতে গেলে তারা গুরুতর আহত হন।
ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক নারী ও তার কন্যাশিশুকে লিভ-ইন সঙ্গীর অপহরণের ঘটনাকে মণিপুরে হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা খ্রিস্টান মা-মেয়েকে অপহরণের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।


