সম্প্রতি, বাংলাদেশে কথিত এক হিন্দু সন্ন্যাসীকে মারধরের দৃশ্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, গেরুয়া পোশাক পরিহিত একজন সন্ন্যাসী বেশের ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করছেন।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফেসবুকে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশে কোনো হিন্দু সন্ন্যাসীকে মারধরের ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের পাঞ্জাবের তান্ডা রেলওয়ে স্টেশনে বাচ্চা চুরির অভিযোগে একজন কথিত সন্ন্যাসীকে মারধরের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে arjeet sagar নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গতবছরের ১৪ ডিসেম্বর একই ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায়।

অ্যাকাউন্টটিতে একই ঘটনার একাধিক ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রচারিত প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক আখ নিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো দিয়ে ওই সন্ন্যাসীকে মারধর করেন। ভিডিওগুলোর একটি থেকে জানা গেছে, এটি তান্ডা রেলওয়ে স্টেশন নামে একটি রেলওয়ে স্টেশনের দৃশ্য।

পোস্টটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সন্ন্যাসীকে বাচ্চা চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়।

পাশাপাশি মূল ভিডিওটির মন্তব্যের ঘর পর্যালোচনা করে পোস্টকারীর একটি মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে তিনি আরেকজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জানান, ভিডিওগুলো তিনি নিজেই ধারণ করেছেন।

এছাড়াও, অ্যাকাউন্টটিতে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায় একজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাটি কাভার করছেন।
পরবর্তীতে, একই ঘটনায় The Voice Of Haryana নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রচারিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তান্ডা রেলওয়ে স্টেশনটি ভারতের পাঞ্জাবে অবস্থিত।
অর্থাৎ, কথিত ওই সন্ন্যাসীকে মারধরের আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।
সুতরাং, বাচ্চা চুরির অভিযোগে ভারতে কথিত সন্ন্যাসীকে মারধরের ভিডিওকে বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসীকে মারধরের ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।


