বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনার অভিযোগের খবরে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রথম আলো অফিসে হামলার ছবি প্রচার

সম্প্রতি কতিপয় ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এবং হামলার বিষয় চিত্রিত করতে একটি ছবিও সংযুক্ত করে প্রচার করা হয়। এরূপ দাবিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন: দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়া, উইয়ন।

এসব গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিকে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার সাথে সম্পৃক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটির সাথে বাংলাদেশে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর ওপর হামলার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃতপক্ষে ছবিটি ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর অফিসে হামলার ঘটনার দৃশ্যের।
আলোচিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ‘এপি’র ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের গত ১৯ ডিসেম্বরে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে ৬টি ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায় যার ৫ম ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির হুবহু মিল পাওয়া যায়। ছবিটির বর্ণনায় বলা হয়, ‘শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সিঙ্গাপুর থেকে প্রখ্যাত কর্মী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা প্রথম আলো দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পর ঢাকায় পত্রিকাটির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহারা দেয়।’ (অনূদিত) এছাড়াও, ছবিটি এপি এর ছবি বলেও উল্লেখ করা হয়।

পাশাপাশি, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে প্রথম আলোর অফিসের ওপর হামলার ঘটনার পরবর্তী সময়ের ছবি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিতে প্রদর্শিত স্থাপনার মিল পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ছবিটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর অফিসের ওপর হামলার ঘটনার দৃশ্যের।

পরবর্তীতে প্রথম আলোর অফিসে হামলার ঘটনার বিষয়ে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৯ ডিসেম্বরে প্রথম আলোর বক্তব্য পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর অফিস উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত আক্রমণের শিকার হয়েছে।..একই রাতে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ও সন্ত্রাসী আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নি–সংযোগের শিকার হয়। এ কথা বিশ্বাস করার সংগত কারণ আছে যে শরিফ ওসমান হাদির দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এসব আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়েছে।..’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টা দিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি মারা যান।
সুতরাং, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর অফিসে হামলার ঘটনার ছবিকে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনার খবরে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- AP News – Protesters storm offices of leading Bangladesh dailies after a 2024 uprising activist dies
- Prothom Alo – Prothom Alo’s statement on the attack on its office
- Rumor Scanner’s analysis

