ভারতের জাহাজে ইরানের হামলা দাবিতে ইরানের জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দৃশ্য প্রচার

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনলাইনে একটি জাহাজের ওপর হামলার/অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘ইরানের হামলায় দাউদাউ করে জ্বলছে ভারতের তেলবাহী জাহাজ’।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট: মানবকণ্ঠ।
এরূপ দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার দৃশ্যের নয়৷ প্রকৃতপক্ষে গত ৮-৯ মার্চে ইরানের জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দৃশ্য আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘OSINTdefender’ নামক এক্স অ্যাকাউন্টে গত ৯ মার্চে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।

ভিডিওর প্রেক্ষাপট বিষয়ে ক্যাপশনে বলা হয়, ‘পারস্য উপসাগরের বন্দর লেঙ্গেহ উপকূলে আজ ইরানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজে বিস্ফোরণ হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস নেভি (IRGCN) দ্বারা পরিচালিত একটি ‘শহীদ সোলেমানি-ক্লাস’ মিসাইল কর্ভেট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই বিস্ফোরণটি ঘটে।’ (অনূদিত)
এছাড়াও, বিশ্বের নানাদেশিয় নৌবাহিনী ও নৌ সংক্রান্ত খবরের প্ল্যাটফর্ম ‘নেভাল নিউজ’ এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে গত ১০ মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিওর একটি দৃশ্যের স্ক্রিনশটেরও সংযুক্তি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৬ সালের ৮ মার্চ মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে ইরানের একটি শহীদ সোলেমানি-ক্লাস মিসাইল ক্যাতামারান কর্ভেটে হামলা চালায়। IRIS Haj Qasem হিসেবে শনাক্ত করা কর্ভেটটি বন্দর লেঙ্গেহ উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় আক্রান্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবির দৃশ্যমান বিশ্লেষণ জাহাজটির পরিচয় নিশ্চিত করে।..’ (অনূদিত)
এছাড়াও, আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টিভি’র ওয়েবসাইটেও একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, সমুদ্রের মাঝখানে ইরানের একটি নৌযান বিস্ফোরিত হচ্ছে; প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর এটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অনলাইনে বেশ কিছু প্রতিরক্ষা-পর্যবেক্ষণকারী অ্যাকাউন্ট থেকে এই ফুটেজটি শেয়ার করা হয়েছে এবং বলা হচ্ছে যে, এটি পারস্য উপসাগরের বন্দর লেঙ্গেহ-র কাছের একটি ঘটনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা জাহাজটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস নেভি (IRGCN) দ্বারা পরিচালিত একটি ‘শহীদ সোলেমানি-ক্লাস’ মিসাইল কর্ভেট বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ (অনূদিত)
আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে আরব ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘মিসবার’ এর ওয়েবসাইটেও একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ‘আসল ভিডিওটি ৯ মার্চের এবং এতে আরব উপসাগরের বন্দর লেঙ্গেহ ও কানগান বন্দরের কাছে মার্কিন হামলায় ইরানের একটি জাহাজকে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়।’ (অনূদিত)
সুতরাং, ভারতের তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার দৃশ্য দাবিতে ইরানের জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

