পাঞ্জাবি পরিহিত দাঁড়িওয়ালা ব্যক্তির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, পাকিস্তানের 

সম্প্রতি, ‘খিলাফত কায়েম করতেছে। বাংলাদেশের তৌহিদি যৌনতা নামক জামাতি, হিজবুতি, হেফাজতিরা।’ শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পাঞ্জাবি পরিহিত দাঁড়িওয়ালা ব্যক্তির ব্যক্তির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং এটি পাকিস্তানের শেখুপুরা শহরের ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটির কিছু কী ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘Mansoor Ali Khan Fans’ নামক একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির কিছু অংশের হুবহু মিল রয়েছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘একটি বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ আরসালান মহিলা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশ্লীল আচরণে জড়িত ছিলেন এবং গোপন ক্যামেরার সাহায্যে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে বিদেশে বিক্রি করতেন। মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার’ (অনূদিত)

উক্ত পোস্ট থেকে প্রাপ্ত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘ARY News’ এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ‘School principal arrested for alleged abuse of teachers, students’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের শেখুপুরার মির্জা ভিরকান এলাকায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক স্কুলের অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভুক্তভোগীদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই মামলাটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওগুলি প্রকাশের পর, বি-ডিভিশন স্টেশন পুলিশ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। নূর-উল-হুদা স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আরসালান নামে অভিযুক্তের কাছ থেকে পুলিশ কমপক্ষে ১৫০টি অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করেছে।

অর্থাৎ, উক্ত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।

সুতরাং, পাকিস্তানের শেখুপুরা শহরে পাঞ্জাবি পরিহিত দাঁড়িওয়ালা ব্যক্তির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: