রাজধানী ঢাকাসহ অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ দাবিতে ২০২৪ সালের পুরোনো ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, ‘রাজধানী ঢাকা সহ অনেক এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ইন্টারনেট সেবা এতে চরম ভোগান্তিতে আছে সাধারণ জনগণ’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট সেবা সীমিতের ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদনের পুরোনো ভিডিওকে বর্তমানের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ‘জানা গেল মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমার কারণ’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর শুরু থেকে ২১ সেকেন্ড অংশের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

একই শিরোনামে সময় টিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ফোরজি কাভারেজ সীমিত করায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমে গেছে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি। এতে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে দীর্ঘ চেষ্টায় প্রবেশ করতে পারলেও কোনো বার্তা, ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা যাচ্ছে না। সেসময় সরকারি নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছেিল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিল মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সেসময় অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও এবিষয়ে সংবাদ (১, ২, ৩, ৪) প্রকাশ করে।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৪ সালের।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার দাবির বিষয়ে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হলে সে বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো।
সুতরাং, ২০২৪ সালে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট সেবা সীমিতের ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদনের ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

