কিং ফাহাদ সেতুতে ইরানের হামলা দাবিতে রাশিয়ার কের্চ সেতু বিস্ফোরণের পুরোনো ভিডিও প্রচার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। দুই পক্ষের হামলা পাল্টা হামলা এখনো চলমান রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে, ‘বাহরাইন ও সৌদি আরবকে সংযুক্তকারী কিং ফাহাদ (ফ্রেন্ডশিপ) সেতুর দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রথম ফুটেজ, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম সেতুটি সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আল-খোবারে অবস্থিত বাহরাইনের সাথে সংযুক্ত আরব সাগরের উপর নির্মিত কিং ফাহাদ সেতুতে হামলা চালায়নি ইরান। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সাথে রাশিয়ার কের্চ সেতু বিস্ফোরণের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Guardian News’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর ‘Kerch bridge explosion: CCTV appears to show Crimea bridge blast’ প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর শুরু থেকে ৯ সেকেন্ড অংশের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে সিএনএন ওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একটি বড় বিস্ফোরণে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দখলকৃত ক্রিমিয়ার সংযোগকারী একমাত্র সেতু ‘কের্চ সেতু’ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর কিছু অংশ ধসে পড়ে। এই হামলায় রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড ও দখলকৃত উপদ্বীপের মধ্যে প্রধান পরিবহন সংযোগ ব্যাহত হয়।
সেসময় এবিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও সংবাদ (১, ২, ৩) প্রকাশ করে।
এছাড়া, কিং ফাহাদ সেতুতে হামলার বিষয়ে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্তসূত্রে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘Bh news’ এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ৩ মার্চ প্রচারিত একটি পোস্টে কিং ফাহদ সেতুতে হামলা ঘটনাকে মিথ্যা দাবি করা হয়।
সুতরাং, ২০২২ সাথে রাশিয়ার কের্চ সেতুতে বিস্ফোরণের ভিডিওকে সৌদির কিং ফাহত সেতুতে ইরানের হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

