ইরানের হামলায় বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটির সেনাদের পরিবারের উদ্দেশ্যে আবেগঘন ভিডিওবার্তা প্রকাশের দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এঘটনায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে ইরানের হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাটিতে ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এছাড়াও বাহরাইনের মার্কিন সেনাদের ক্রন্দনরত অবস্থায় পরিবারের উদ্দেশ্যে ভিডিওবার্তা প্রচারের দাবিতে উল্লিখিত তথ্য সংবলিত কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করা হয়। প্রচারিত ভিডিওগুলো Mustafa Kamal Pasha নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ভিডিওগুলোতে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ মার্কিন সেনাসদস্যকে কথা বলতে দেখা যায়। ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিওগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) ও এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সেনাসদস্যদের ক্রন্দনরত অবস্থায় পরিবারের উদ্দেশ্যে ভিডিওবার্তা প্রকাশের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলোও আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এসব ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে চীনভিত্তিক গণমাধ্যম CGTN-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে তাদের করা হামলায় অন্তত ২০০ জন মার্কিন সেনা আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে হামলার তথ্য পাওয়া গেলেও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও

যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ সংক্রান্ত কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। তাই, ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহতের দাবিটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটিতে থাকা সেনাদের ক্রন্দনরত অবস্থায় পরিবারের উদ্দেশ্যে ভিডিওবার্তা প্রকাশের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় প্রায় প্রতিটি ভিডিওতেই কিছু এআইজনিত অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। প্রথম দুটি ভিডিওতে দেখতে পাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় কোনো তারা দেখতে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও পরবর্তী ভিডিওটিতে পুরুষ সেনা হাতে দেখতে পাওয়া মোবাইল ফোনটির সাইজ অস্বাভাবিক। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের কথা বলার ভঙ্গিতে এআই জনিত লক্ষণ স্পষ্ট। তাই ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ ভিডিওগুলো পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ

এছাড়াও অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে বাহরাইনের মার্কিন সেনাদের এমন ভিডিওবার্তা প্রকাশের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সেনাদের পরিবারের উদ্দেশ্যে আবেগঘন ভিডিওবার্তা পাঠানোর দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: