চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে আমেরিকার সবচেয়ে দামি এবং আধুনিক একটি রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান শীর্ষক দাবিতে একাধিক ছবির একটি কোলাজ প্রচার হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মূলত, দুটি ছবি প্রচার করে রাডারটি ধ্বংসের আগে এবং আরেকটি ধ্বংসের পরের অবস্থা বোঝানো হচ্ছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
একই দাবির পোস্ট দেখুন ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডসে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আমেরিকার রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ছবিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গুগল আর্থে নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটির (NSA) স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে আলোচিত ছবিটির মিল পাওয়া যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পঞ্চম নৌবহর’-এর প্রধান কেন্দ্র এটি। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে চলাচলকারী জাহাজ ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর কাজ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে ।

দ্বিতীয় ছবিটির ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ছবি এবং ডানের ছবি– উভয়কে একে অপরের পাশে রেখে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবির নিচের অংশে একটি ভবন দেখা যাচ্ছে যার ছাদ প্রায় সমতল, কিন্তু “পরের” (after) ছবিটিতে হঠাৎ করেই তার ওপর দুটি অতিরিক্ত কাঠামো দেখা যাচ্ছে।
ছবির উপরের দিকের ভবনগুলোরও আকার পরিবর্তন হয়েছে এবং পরের ছবিটিতে ভিন্ন আকৃতির সোলার প্যানেলও যুক্ত করা হয়েছে।
ছবিগুলো যদি কয়েক মাস বা বছরের ব্যবধানে তোলা হতো, তবে কিছু ভবনের পরিবর্তন হওয়া নিশ্চিতভাবেই সম্ভব ছিল; কিন্তু সেক্ষেত্রে উভয় ছবিতে একই যানবাহনগুলো ঠিক একই স্থানে উপস্থিত থাকতো না।

এই অতিরিক্ত কাঠামোগুলোর সংযোজন বিস্ফোরণজনিত ক্ষয়ক্ষতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পরের ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
পরবর্তীতে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে আলোচিত ছবিটি যাচাই করলে এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে জানা যায়।
সুতরাং, আমেরিকার রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান দাবিতে যে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে তা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- NSA Bahrain: Google Earth
- Rumor Scanner’s analysis


