ইরানে সাম্প্রতিক মিসাইল প্রদর্শনের দাবিতে ২০০৮ সালের ছবির ভিত্তিতে এআই-তৈরি ভিডিও প্রচার 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতায় চলমান ইরান বনাম ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষিতে ‘সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের রাস্তায় একটি মিসাইল’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০০৮ সালে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত শাহাব-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনীর একটি ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে এবং তা আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওটির কোন সূত্রে পাওয়া সে সম্পর্কে জানা যায়নি।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে কয়েকটি অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন, ভিডিওতে দৃশ্যপটে থাকা যানবাহনগুলোকে পেছনের দিকে চলতে দেখা যায়, নারীর পোশাক পরিহিত একজন ব্যক্তিকে চলন্ত অবস্থায় পুরুষের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হতে দেখা যায় এবং মানুষজনের হাঁটাচলায় এক ধরনের কৃত্রিম গতি লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের অসঙ্গতি সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিওর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে The Times of Israel এর ওয়েবসাইটে ২০১৫ সালের ০৮ মার্চ ‘Iran brings Europe within range with new cruise missile’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করা যায় যে, এটি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবিটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ২০০৮ সালে ইরানের তেহরানে একটি সামরিক প্রদর্শনীতে শাহাব-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করার চিত্র এটি।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকালীন ইরানের কোনো পরিস্থিতির দৃশ্য নয়।

পরবর্তীতে, The New York Times এর ওয়েবসাইটে ২০১৫ সালের ০২ ডিসেম্বর ‘Nuclear Agency Says Iran Worked on Weapons Design Until 2009’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

সুতরাং, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ২০০৮ সালের একটি পুরোনো ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: