ইরানের হাতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যদের আটক হওয়ার দাবিতে এআই নির্মিত ছবি প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স দেশটির সেনাদের হাতে আটক হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

প্রচারিত ছবিগুলোর কয়েকটি ব্যবহার করে একাধিক দেশিয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন দেখুন প্রবাস টাইম, যুগান্তর এবং মানবকণ্ঠ।
এছাড়াও দেশটির সীমান্ত দিয়ে কুর্দিদের সাথে মার্কিন সেনারা প্রবেশের চেষ্টা করলে তারা ইরানী সেনাদের হাতে আটক হয় দাবিতে একই দৃশ্য সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হতে দেখা যায়। প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স অভিযান চালাতে গিয়ে আটক হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো আসল নয়। এছাড়াও চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে ইরানে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের স্থল অভিযান চালানো কিংবা তাদের আটক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা তৈরি এই ছবিগুলো ব্যবহার করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে ইরানে স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যদের আটক হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বংশোদ্ভূত ইরানী রাজনীতিবিদ এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা আলী লারিজানি তার এক এক্স পোস্টে দাবি করেন, বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দী করেছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে কারা তাদের আটক করেছে অথবা আটককৃতরা ডেল্টা ফোর্সের কিনা এসব বিষয়ে পোস্টটির কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও অনুসন্ধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের কোনো বাহিনীর সদস্যদের ইরানের হাতে আটক হওয়া বিষয় কোনো তথ্য প্রচার করতেও দেখা যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিগুলো একই দাবিতে ভিন্ন ভিন্ন দেশিয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রচারিত হয়েছে। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে। পোস্টগুলোতে প্রচারিত তিনটি ছবিতে গুগলের জেমিনি এআইয়ের জলছাপ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু প্যারাসুট দিয়ে মার্কিন সৈন্যদের মাটিতে নামার ছবিটিতে উক্ত জলছাপটি দেখতে পাওয়া যায়নি। তবে ছবিটিতে জেমিনির জলছাপ না দেখা গেলেও এটিতে এআইজনিত অসঙ্গতি স্পষ্ট। কারণ ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, সেনাদের নামাতে আসা হেলিকপ্টারটি মাটি থেকে বেশি উপরে নয়। এইটুকু উচ্চতায় প্যারাসুট দিয়ে নামা সম্ভব নয়। সাধারণত এআই জেনারেটেড কনটেন্টের ক্ষেত্রে এই ধরনের অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়।
তাই পরবর্তীতে প্রতিটি ছবি-ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এআই শনাক্তকরণের ফলাফল দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।

পাশাপাশি আলোচিত ছবিগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভিডিওফুটেজ সংবলিত যে ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায় সেটিও এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, এটিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৬.৩ শতাংশ।
অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো ও ভিডিওটি গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যদের আটক হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো এআই নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Ali Larijani | علی لاریجانی X Account Post
- Hive Detect
- Rumor Scanner’s Analysis

