ইরানি মায়েদের তাদের সৈনিক সন্তানদের বিদায় দেওয়ার দৃশ্য দাবিতে সিরিয়ার ভিন্ন ঘটনার ভিডিও 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। ইরান-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘ইরানি মায়েরা তাদের সৈনিক সন্তানদের বিদায় দিচ্ছেন নবীর সুন্নাহ অনুসারে খেজুর খাইয়ে ও দোয়া করে!’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাথে সম্পৃক্ত ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এক নারীর সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বহরকে স্বাগত জানানোর ভিডিওকে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে راديو طيف নামক ইউটিউব চ্যানেলে গত ০৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, সিরিয়ার হাসাকাহ গ্রামাঞ্চল হয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহর কামিশলি শহরের দিকে যাওয়ার সময় একজন নারীর ওই বহরটিকে স্বাগত জানানোর দৃশ্য এটি।

উক্ত সূত্র ধরে একই তারিখে গণমাধ্যম Al Mashhad এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে সিরিয়ার গণমাধ্যম Shaam Network এর ওয়েবসাইটে গত ০৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিরিয়ার হাসাকাহ গ্রামাঞ্চলের তাল ব্রাক এলাকার তাল আধান গ্রাম অতিক্রম করে কামিশলি শহরে যাওয়ার সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বহরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তাল আধান গ্রামে বসবাসকারী নওরা আল-ওয়াসমি নামক ওই নারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে, নওরার এই উদ্যোগকে সম্মান জানাতে সিরিয়ান আরব সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল তার বাড়িতে পরিদর্শন করে।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওর ঘটনাটি সিরিয়ায় ঘটেছে। এবং, এটি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ঘটেছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পূর্বের ঘটনা।

সুতরাং, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকালে ইরানি মায়েদের তাদের সৈনিক সন্তানদের বিদায় দেওয়ার দৃশ্য দাবিতে সিরিয়ার ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: