মেডিকেল কলেজে ‘নারীদের শিক্ষা হারাম’ বলে হামলার দাবি মিথ্যা, ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

সম্প্রতি, ‘বাংলাদেশে একদল মুসলিম পুরুষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নারীদের একটি মেডিকেল কলেজে হামলা চালায় এবং সহিংসভাবে দাবি করে যে “নারীদের শিক্ষা গ্রহণ হারাম”—যার ফলে তারা পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। একবার ভাবুন তো, এ কেমন পাগলামি! ইসলাম একটি অসুস্থ, জঘন্য ও বিকৃত মতাদর্শের ধর্ম। দয়া করে জেগে উঠুন’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে এক্সে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই৷ প্রকৃতপক্ষে, রাজধানীর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ঢুকে পড়ার পুরোনো দৃশ্যকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Tasnim Orchy’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৪ এ প্রকাশিত আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, সেদিন তাদের ক্লাস চলাকালে লাঠি হাতে উক্ত ব্যক্তি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। অর্চির দাবি, তিনি একজন মানসিক রোগী।

এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুবায়ের এলাহী নামের এই ব্যক্তিকে ২৮ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিবেদনটিতে জুবায়েরের মা সুফিয়া আক্তারের বরাতে জানানো হয়, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় হঠাৎ একদিন তার ছেলে ঘুম থেকে এক মেয়ের নাম বলে চিৎকার করে ওঠে। এর পর থেকেই সমস্যা। তবে ওই মেয়েকে তারা কখনো দেখেননি। প্রায় ১০ বছর ধরে ছেলেকে নিয়ে ভুগছে পরিবার। জুবায়ের যখন পাগলামি করেন, তখন তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, পূর্বেও একই ভিডিও ব্যবহার করে সলিমুল্লাহ মেডিকেলে হিযবুত তাহ্‌রীরের সদস্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিলো। সেসময় দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সলিমুল্লাহ মেডিকেলে হিযবুত তাহ্‌রীরের সদস্য দাবিতে আল জাজিরা কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি

Share: