ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অক্ষত মসজিদ দাবিতে বাংলাদেশের ভিডিও প্রচার 

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘ইরানে ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তুপের মধ্যেও অক্ষত মসজিদ’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও টিকটকে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি টিকটকে প্রচারিত সর্বাধিক ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় ১১ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং এটি ২ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাথে সম্পৃক্ত ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে মসজিদ অক্ষত থাকার ঘটনাকে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকালীন ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূল ধারার গণমাধ্যম একাত্তর টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ‘কড়াইল বস্তির আগুনে সব পুড়ে গেলেও, অক্ষত মসজিদ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর দৃশ্যাবলীর সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত সূত্র ধরে দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে আরটিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হাজারো মানুষ সর্বস্ব হারালেও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছে মসজিদ ও পবিত্র কোরআনের কপি। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও মসজিদটি আগুনের মূল প্রবাহের বাইরে থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। আশপাশের ঘরবাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেলেও মসজিদ ও পবিত্র কোরআনের কপি অক্ষত অবস্থায় মিলেছে।

সুতরাং, ইরানে ইসরায়েলের হামলায় অক্ষত মসজিদের দৃশ্য দাবিতে বাংলাদেশের কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অক্ষত মসজিদের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: