চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাদের গ্রামবাসীর ধাওয়ার দৃশ্য দাবিতে মুন্সিগঞ্জের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার 

গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামে গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করেছে। জানা যায়, জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও কমিশনার রায়হান উদ্দিনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক সৈয়দপুরের সমুদ্র উপকূলে কৃষি জমি ভরাটে যান। সেখানে প্রায় ১০০ একর কৃষি জমি ভরাটের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন তারা। তবে পরে স্থানীয় কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন জামায়াত নেতারা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘মাইকিং করে জামাত নেতাদের ধো*লা*ই ও ধাওয়া || চট্টগ্রামে একি কান্ড’ শিরোনামে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জমি ভরাট নিয়ে গ্রামবাসীর জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করার ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত জুন মাসে মুন্সিগঞ্জে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিওকে চট্টগ্রামের উক্ত ঘটনার ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ১৯ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ১৯ জুন প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনগুলোতে সংযুক্ত ছবিগুলোর সাথে আলোচিত ভিডিওটির থাম্বনেইলের ছবিটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জ সদরে চরআব্দুল্লাহপুরের কাছে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনকারীদের ওপর গ্রামবাসীর ধাওয়ার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন মেঘনায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় ২০০ থেকে ৩০০’শ গ্রামবাসী হামলা চালায়। এই সময় বালু উত্তোলনকারীরাও চড়াও হলে সংঘর্ষ বাধে। মারধর খেয়ে দ্রুত ড্রেজার ও বাল্কহেট নিয়ে পালিয়ে যায় বালু উত্তোলনকারীরা। প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবিগুলো উল্লিখিত ঘটনার দৃশ্য।

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৯ জুন ‘বালু উত্তোলন ঘিরে গ্রামবাসী-শ্রমিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত মুন্সিগঞ্জ’ শিরোনামে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

সুতরাং, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জমি ভরাটকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীর জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করার দৃশ্য দাবিতে মুন্সিগঞ্জের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: