পরকীয়ার অভিযোগে জামায়াত কর্মী বহিষ্কারের বিষয়ে জামায়াত আমীরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- ‘পরকীয়ার অভিযোগে আমাদের প্রায় ৪০০ নেতা কর্মী সাময়িক বহিষ্কার ও দুই শতাধিক স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরাধীর আশ্রয় জামায়াতে হবে না।’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ‘পরকীয়ার অভিযোগে আমাদের প্রায় ৪০০ নেতা কর্মী সাময়িক বহিষ্কার ও দুই শতাধিক স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ডা. শফিকুর রহমানের নামে আলোচিত ভুয়া এই মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ডা. শফিকুর রহমান এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে তা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো।

এছাড়া, ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুক পেজ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। তবে, গত বছরের ২৯ মে ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পেজ থেকে দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখা এক পোস্টে বলা হয়, ‘দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে সংগঠন তার কোনো দায় নেবে না এবং এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে কোনো ছাড়ও দেওয়া হবে না — ব্যক্তি তিনি যেই হোন না কেন।..’

সুতরাং, ডা. শফিকুর রহমান ‘পরকীয়ার অভিযোগে আমাদের প্রায় ৪০০ নেতা কর্মী সাময়িক বহিষ্কার ও দুই শতাধিক স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: