খালেদা জিয়া আগেই মারা গেছেন, তারেক রহমানের জন্য প্রকাশ করা হয়নি শীর্ষক মন্তব্য করেননি জামায়াত আমীর

৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভোরে মৃত্যু হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি সংযুক্ত করে তৈরি এক ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয়েছে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সে (খালেদা জিয়া) মারা গিয়েছেন অনেক আগেই কিন্তু তার ছেলের (তারেক রহমান) জন্য প্রকাশ করা হয়নি’। এরূপ পোস্ট প্রচার করে ক্যাপশনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, ‘যে নিজের মায়ের সাথে এমন আচরণ করতে পারে, সে ছেলের কাছে জাতি ভালো কোন কিছু আশা করতে পারে’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদা জিয়া অনেক আগেই মারা গেছেন কিন্তু তারেক রহমানের জন্য প্রকাশ করা হয়নি শীর্ষক মন্তব্য করেননি জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে সূত্রপাত হওয়া পোস্টকে আসল খবর দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, প্রচারিত পোস্টগুলোতে সংযুক্ত ফটোকার্ডে মূলধারার গণমাধ্যম ‘বাংলাভিশন’ এর লোগোর আদলে তৈরি ‘গজবভিশন’ নামের একটি লোগোর সংযুক্তি পাওয়া যায়৷

এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ‘গজবভিশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ৩০ ডিসেম্বরে আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়।

‘গজবভিশন’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের বায়োতে উল্লেখ পাওয়া যায়, ‘শুধু বিনোদনের জন্য! সমসাময়িক খবর ব্যঙ্গ-সারকাজমে উপস্থাপন। সিরিয়াস হবেন না।’ এছাড়াও, পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরো অনেক ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। পাশাপাশি, আলোচিত পোস্টটির তারিখ পর্যবেক্ষণ করলে ‘৩৬ জুলাই ২০২৫’ লেখা দেখা যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যাঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, খালেদা জিয়া অনেক আগেই মারা গেছেন কিন্তু তারেক রহমানের জন্য প্রকাশ করা হয়নি শীর্ষক মন্তব্য জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: