ইসলামী ব্যাংক থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেননি জামায়াত আমীর

দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা, মালিকানা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট) তৃতীয় দিন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে “ইসলামী ব্যাংক থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু নিজের নামেই ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন এমন দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে তাকে বলতে শোনা যায়, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব চমৎকার চমৎকার কিছু কথা বলেছেন। এগুলো একটু স্মরণ করতে চাই। উনি বলেছেন যে শেয়ারহোল্ডার, শেয়ারহোল্ডার। সে কীভাবে শেয়ারহোল্ডার হয়েছে এটা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই এক্সপোজ হয়ে গেছে। সারা দুনিয়া জানে, উনি জানেন না? উনার মত একজন বিজ্ঞ মানুষ, আমি এটা বিশ্বাস করি না। এই ব্যাংক থেকে উনি একা নিয়েছেন তার নিজের নামেই ৮২,০০০ কোটি টাকা। আর তার সমুদয় শেয়ার যেগুলা তিনি কিনেছেন, ৮২% এর মালিক হয়ে গিয়েছেন। এগুলার মূল্য হচ্ছে মাত্র ১২,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিনি কইয়ের তেল দিয়ে শুধু কই ভাজেন নাই; কইও ভাজছেন, ১৬ মাসও ভাজছেন।” এছাড়াও তাকে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে আরও কথা বলতে শোনা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শফিকুর রহমানের সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি বলেছেন এস আলম ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমে জাতীয় সংসদের সেদিনের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমীরের দেওয়া পুরো বক্তব্যের একটি ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মো. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটির মত একই কথাগুলো বলেন। তবে তার আলোচিত মন্তব্যটির পরেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে থামিয়ে তার বক্তব্যটি স্পষ্ট করার জন্যে “মাননীয় নেতা, আপনি ভালোই বলছেন। কিছু কিছু অস্পষ্টতা আমার কাছে মনে হয় যে, তিনি বলতে কাকে আপনি মিন করছেন? আর যে আমলে এভাবে নিয়োগে বৈষম্য করা হয়েছে, অবৈধভাবে নিয়োগ হয়েছে, সেটা কি ফ্যাসিস্ট আমলে নাকি এই সরকারের আমলে? ক্লিয়ার করে বললে সবাই উপকৃত হবে।” শীর্ষক মন্তব্য করেন।

এরপর মো. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন ঘটনাটি আওয়ামী সরকারের সময়কার। এছাড়াও তার পরবর্তী বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে তিনি উক্ত মন্তব্যটি এস আলমকে উদ্দেশ্য করে করেছেন।

উক্ত ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামায়াতে আমীরের আলোচিত বক্তব্যের অস্পষ্ট (‘উনি’ সম্বোধন করে দেওয়া বক্তব্যের) অংশে ব্র্যাকেটে এস আলম উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে বলে লক্ষ্য করা যায়। এমন প্রতিবেদন দেখুন এখানে

অর্থাৎ, মো. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে অস্পষ্টতা থাকায় সেটিকে ধরে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, জামায়াতে ইসলামীর আমীরের জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলমের ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: