জামায়াত ও দলটির আমীর এবং এনসিপি নেতা মশিউরকে জড়িয়ে যমুনা টিভির নামে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে Kutub Uddin নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমানকে জড়িয়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত চারটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

এর মধ্যে প্রথম ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘চাঁদাবাজদের আমরা বুকে টেনে নিতে চাই, কারন তারা আমাদেরই ভাই: শফিকুর রহমান’।

দ্বিতীয় ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতও চায় জামায়াতে ইসলামি ক্ষমতায় আসুক: শফিকুর রহমান’।

তৃতীয় ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামীর অন্তকোন্দলে গত দেড় বছরে ১৭০০ খুন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট’।

চতুর্থ ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘এনসিপি নেতা মশিউরের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোেগ আনলেন তার শ্যালিকা : তদন্তে ডিবি’।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনকে জড়িয়ে যমুনা টিভি উল্লিখিত ফটোকার্ডগুলো প্রচার করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে আলোচিত দাবিগুলো প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডসমূহ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এগুলোর প্রত্যেকটিতেই যমুনা টিভির লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

ফটোকার্ড যাচাই-১

যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যম (, ) সূত্রে জানা যায়, এটি গত ২৪ জানুয়ারি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এস এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য প্রদানের দৃশ্য। উক্ত বক্তব্যে তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেবো। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না। কেউ তোমার মা-বাবাকে চাঁদাবাজের মা-বাবা বলবে না, স্ত্রীকে কেউ চাঁদাবাজের স্ত্রী বলবে না। সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারবে।’ তবে, উক্ত বক্তব্যে তাকে ‘চাঁদাবাজদের আমরা বুকে টেনে নিতে চাই, কারন তারা আমাদেরই ভাই’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, একাধিক গণমাধ্যম (, )সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা চাঁদাবাজি করছেন তাদের বুকে টেনে নিয়ে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। চাঁদাবাজি যদি সত্যিই অভাবের কারণে করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি।’ তবে, উক্ত বক্তব্যে তাকে ‘চাঁদাবাজদের আমরা বুকে টেনে নিতে চাই, কারন তারা আমাদেরই ভাই’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

অর্থাৎ, জামায়াতের আমীরের ‘যারা চাঁদাবাজি করছেন তাদের বুকে টেনে নিয়ে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই।’ বক্তব্যটিকে বিকৃত করে ‘চাঁদাবাজদের আমরা বুকে টেনে নিতে চাই, কারন তারা আমাদেরই ভাই’ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷

যমুনা টিভি ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবিটির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ফটোকার্ড যাচাই-২

যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যম (, ) সূত্রে জানা যায়, এটি গত ২৪ জানুয়ারি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এস এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য প্রদানের দৃশ্য। উক্ত বক্তব্যে তিনি চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া ও উত্তরবঙ্গের নদীর রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন৷ তিনি আরও বলেন, ‘আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই না। অবশ্যই বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই, আমরা প্রতিবেশীদেরও আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আর কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক তাও দেখতে চাই না। আমাদের কথা একদম পরিষ্কার। ৫৪ বছর যেই শাসন, যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যে বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে। এই শাসন আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই তার আমূল পরিবর্তন।’ তবে, উক্ত বক্তব্যে তাকে ‘আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতও চায় জামায়াতে ইসলামি ক্ষমতায় আসুক: শফিকুর রহমান’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

যমুনা টিভি ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবিটির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ফটোকার্ড যাচাই-৩

যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

যমুনা টিভি ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত কথিত মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টের সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ফটোকার্ড যাচাই-৪

যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

যমুনা টিভি ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবিটির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমানকে জড়িয়ে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত উল্লিখিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: